বালাকোট : আযাদীর প্রথম শাহাদাতগাহ
আজ ৬ই মে। ১৮৩১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই দিকপালের নেতৃত্বে বালাকোটের ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সে যুদ্ধ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ ফিরিয়ে দেয়া, আত্মগ্লানি মুছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখা, অধঃপতিত মুসলিম সমাজের গৌরবময় ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা আর গাদ্দারির বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করা। মূলত ভারতবর্ষে সুদীর্ঘকালব্যাপী মুসলিম শাসনের সোনালী অধ্যায় বাদশাহ আলমগীরের (১৬৫৯-১৭০৭ খ্রি.) পরেই ম্লান হতে থাকে। ষোড়শ শতকে যখন ইংরেজরা থিতু হতে পারেনি তখনো কিছু মুসলিম মেয়েকে তাদের বণিক ও শাসকদের অন্দরমহলে পাওয়া গেছে। নৈতিকভাবে চরম অবক্ষয়ের মুখে পড়তে হয় মুসলিম সমাজকে। তারা তখন প্রকাশ্যে মদ্যপানকেও খারাপ চোখে দেখতো না। হিন্দুদের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করত বল্গাহীনভাবে। আবার শিরক বিদআতের সয়লাব ছিল সর্বত্র। কবর পূজারীরা নিজস্ব নতুন শরীয়ত বানিয়েছিল কবর মাজার কেন্দি্রক। শিয়া রাফেজিদের দৌরাত্ম্যে ঈমান ও আকিদায় বেসামাল হয়েছিল সাধারণ মুসলমানরা। এদিকে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আ¤্রকাননে মীর জাফর, জগৎশেঠ, রায়বল্লভদের গাদ্দারীর কারণে উপমহাদেশের স্বাধীনতা হাতছাড়া হয়ে ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসেমের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুরোপুরিভাবে ক্ষমতায় বসে। শুরু হয় পরাধীনতার শিকলবন্দী ইতিহাস। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই শাসকরা হন শাসিত, ব্রিটিশ সরকারের অনুকম্পার ভিখারি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মুসলিমরা। ব্রিটিশ শাসনের পূর্বসূরী ছিল তারা। ফলে অবহেলার খড়গ নেমে আসে মুসলিমদের উপরেই বেশি। এক আইনের মাধ্যমেই মুসলিমদের লক্ষ লক্ষ একরের লাখেরাজ সম্পত্তি দখল করে নেয় ব্রিটিশ সরকার। মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়ে অর্থশূণ্য। আদালতে ফার্সীর পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার প্রচলন হয়। ফলে এক রাতেই হাজার হাজার কেরানী, পেশকার এবং সরকারী কর্মচারী চাকরি হারিয়ে পথে বসে পড়েন। অন্যদিকে, মুসলিমদের ঈমান- আকিদা, তাহযীব-তামাদ্দুনের নৈতিক জায়গায় দেখা যায় চরম খরা। মোটকথা, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি যেগুলো একটি জাতির মৌলিক প্রসঙ্গ এবং তার গৌরবের পরিচায়ক, সেসবের সবটাতেই মুসলিমরা হয়ে পড়ে কোনঠাসা, দেউলিয়া, দিশেহারা। এই দুরবস্থার কথা ভারতগৌরব হুজ্জাতুল
