بسم الله الرحمن الرحيم
وما كان المؤمن ولا مؤمنة اذا قضى الله ورسوله امرا أن يكون لهم الخيرة من أمرهم ومن بعض الله ورسوله فقد صل ضلالا مبينا ، واد لقبول الذى العم الله عليه وانعمت عليه اسمك عليك زوجك واتق الله وتحفى في نفسك ما الله ميديه وتخشى الناس والله احل ان تخشاه فلما قضى زيد منها وطرا زوجناكها لكي لا يكون على امتهن وطرا وكان أمر الله مفعولا . (الأحزاب : ٣-٣٧) المؤمنين خرج في أزواج ادعياءهم ان
শাব্দিক বিশ্লেষণ
– বাক্যটির ভাবার্থে এ কয়েকটি বাকা আসতে পারে
অর্থ হলো থাকবে না তাতে তাদের রায় বা ইচ্ছা, বরঞ্চ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করত তাদের মাধতীয় আদেশ ও নিষেধকে মানা করা (তাহানীর তাবারী)।
অনুবাদ
আয়াতের তরজমা হচ্ছে যখন আল্লাহ এবং তার রাসূল কোন বিষয়ে ফয়সালা দিবেন, তখন সে বিষ কোন মুমিন পুরুষ এবং মু’মিন নারীর ভিন্ন রায় থাকবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে (সা) মানেনা র সে বিষয়ে ভিন্নমত ও ইচ্ছাকে প্রধান্য দেয় সে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্ত স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন তুমি বলেছিলে সে ব্যক্তিকে থাকে তুমি নিয়ামত দান করেছ এবং আল্লাহও তাকে নিয়ামত দান করেছেন যে, তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করা থেকে বিরত থা আর তুমি আল্লাহকে ভয় করো। তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছো আল্লাহ তা প্রকাশ করে নিবেন। তুমি (নিশার ভয়ে) মানুষকে ভয় করছো অথচ আল্লাহ বেশী হক রাখেন যে তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়েদ (রা) যখন যায়নাবের (রা) ব্যাপারে উদ্দেশ্য হাসিলে সক্ষম হলেন, তখন আমরা তোমাকে তার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করে নিলাম। (ই এ জন্য করলাম যে) তাহলে মু’মিনগণের উপর কোন অসুবিধা থাকবে না তাদের পৌষা পুত্রের স্ত্রীগণকে বিয়ের ক্ষেত্রে যখন তারা তাদের র হতে (তালাক নিয়ে) উদ্দেশ্য হাসিলে সক্ষম হবে। আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়িত হয়েই থাকে। (৩৩:৩৬)
আয়াত দুটো একটি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট। ঘটনাটি এই
নবীজীর (সা) পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারেসা যখন যৌবনে পদার্পণ করেন, ত ফুফাতো বোন গায়নৰ বিনতে জাহশকে তাঁর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য পরলাম পাঠান। প্রথম যা (রা) বুঝলেন এ পরগাম নবীজীর (সা) নিজের জন্য; কিন্তু পরবর্তীতে যখন বুঝলে প্রস্তাব নিজের জন্য নয়, তার পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারেসার জন্য, তখন তিনি এবং তার ভাই আব্দুল্লাহ জাহশ এ প্রস্তাবের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন যে, আমরা তো কুরাইশ বংশের। আমরা
বংশগত দিক নিয়ে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তখন তাদের এ মতের বিরুদ্ধে এ আয়াত
দুটির প্রথমটি নাযেল করেন।
তবে শেষের আয়াতেও একটি মাস’আলার সমাধান রয়েছে যা সম্পর্কে একটু পরেই আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ।
ব্যাখ্যা এ আয়াতটিতে নির্দেশ রয়েছে যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা) যখন কোন হুকুম কারো প্রতি বাধ্যতামূলক করে নেন, তখন সে হুকুমটি মানা করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তা না করার অধিকার মু’মিনের থাকে না। এমন আদেশ যারা মানে না বরঞ্চ তাতে নিজেদের ইচ্ছা ও আভিজাত্যকে প্রাধান্য দেয়, তাদেরকে স্পষ্ট পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে আয়াতের শেষাংশে। উল্লেখ্য যে এ আয়াতটি কোন কাফের ও মুশরিকের ব্যাপারে নাযেল হয়নি। নাযেল হয়েছে এমন দুই ব্যক্তির ব্যাপারে যারা মহানবীর (সা) সাহচর্য হাসিলে ধন্য হওয়ার সাথে সাথে আমল-আকীদার দিক দিয়েও তারা চরম উন্নতি লাভ করেছিলেন। সালাত, সপ্তম, যাকাত এবং হাজসহ যাবতীয় আমলে তাঁরা ছিলেন অগ্রগামী। তবে কেন তাঁরা আল্লাহর কাছে দোষী বলে আখ্যায়িত হলেন? এর কারণ হলো তারা আল্লাহ এবং এর (সা) ফয়সালার উপরে বীর মত ও ইরানাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে তারা চরমভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন। এমনিতো ১১ শব্দটি Jhar Ja হওয়ার কারণে তাকীদ বুঝাচ্ছে। তদুপরি তার সেফাত শব্দটি আরো এসে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, তাদের গোমরাহীতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট সুস্পষ্ট হলো মুমিন-মু’মিনার প্রকৃত পরিচয়। এখন আমরা এই মানদণ্ডে বিচার করে দেখবো আমাদের জীবনের সর্বন্তরকে। কেননা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে ইসলাম নিয়েছে সঠিক সমাধান। নিরপেক্ষ দৃষ্টি নিয়ে যদি আমরা লক্ষ্য করি তা হলে আমাদের জীবনের সর্বস্তরের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের সাথে আমাদের মেনে চলা অবাঞ্ছিত নিয়ম-কানুনের অনেক ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাবো না। কেননা আজকে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আল্লাহর দেয়া বিধানের প্রতি কোন প্রকার ভ্রুক্ষেপ করি না। অতএব আমরাও এ আয়াতে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হয়ে যাচ্ছি। এ মর্মে একটি হাদীসও প্রণিধানযোগ্য।
لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواء تبعا لماجات به ( رواه في شرح السنة)
“তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ ঈমানের দাবী করতে পারে না যতক্ষণ তার খাহেশ, পরিকল্পনা এবং ইচ্ছা অনুসারী না হয় সেই বিধানের যা নিয়ে আমি এসেছি।” উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসটিকে আমরা সামনে রেখে নিজেকে প্রশ্ন করবো- ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের যে নীতিমালার প্রতি আমরা আনুগত্য করছি বা অনুসরণ করছি তাতে কি ইহ-পরকালে আমাদের নাজাত আছে? এ প্রশ্নের উত্তর আসবে ‘না’।
উপরোক্ত আয়াত নাযেল হওয়ার পর যায়নার এবং তার ভ্রাতা আল্লাহ তাদের অসম্মি করেন এবং বিয়েতে রাজী হয়ে যান। তাঁর মহর নির্ধারিত হয়েছিল দশটি লাল দিনার (অনুমান তোলা স্বর্ণ) এবং ঘাটটি দিরহাম) অনুমান আঠারো কোলা রৌপ্য)। অতঃপর তারা তাদের দাম্পত্য জীবন এর যাত্রা শুরু করলেন। কিন্তু তাদের স্বভাব-প্রকৃতিতে মিল হলো না। যায়েদ (রা) যায়নাব (রা) সম্পর্কে ভাষাগত শ্রেষ্ঠত্ব, গোত্রগত কৌলীন্যাভিমান এবং আনুগত্যে শৈথিল্য প্রদর্শনের অভিযোগ পেশ করতেন মহানবীর (সা) কাছে। ক্রমশঃ উভয়ের মনোমালিন্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরিশেষে আসল
তালাকের পর্ব। যায়েদ রা: একদিন মহানবীর সা: খেদমতে এস যায়নাবকে রা: তালাক প্রদানে ইচ্ছা ব্যক্ত করলে মহানবী সা: তাকে তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এতে কোন ফল হলো ন। হযরত যায়েদ রা: তাকে তালাক দিয়েই দিলেন। ইদ্দত পালনের পর হযরত যায়নাবের সাথে মহানবী সা: পরিণয়সুত্রে আবদ্ধ হবেন একথা আল্লাহ মহানবীকে সা: ওহী দ্বারা পূর্বেই অবহিত করেছেন। কিন্তু দুটো কারণে মহানবী সা: তা প্রকাশ করেন নি। প্রথমত: তালাক দেওয়া যদিও শরিয়তে যায়েয, কিন্তু শরিয়তে জায়েয বস্তু সমূহের মধ্যে সর্বাধিক ঘৃণিত ও অবাঞ্ছিত।
দ্বিতীয়ত: মহানবীর সা: মনে এই ধারণা সৃষ্টি হলো যে, হযতর যায়নাবকে তালাক দেওয়ার পর যদি তিনি বিয়ে করেন, তা’হলে বর্বর যুগের নিয়মানুযায়ী আরববাসীরা তাকে এই বলে অপবাদ দিবে যে, মুহাম্মদ সা: প্রত্র বধুকে বিয়ে করেছেন। কেননা তার সকল বিষয়ে পুত্র বধুকে প্র্রকৃত পুত্র তুল্য মনে করতো। تخفي نفسك ما الله مبديه
যেহুত যায়নাব রা: যায়েদের রা: সাথে পরিণয়সুত্রে আবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ এবং তার আদেশের কাছে স্বীয় প্রবৃত্তিকে সঁপে দিয়ে যায়েদকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নিলেন, রাব্বুল আলামীন তাঁকে এ ত্যাগের বিনিমেয়ে এমন এক ব্যাক্তিকে স্বামী হিসেবে দিলেন যিনি সাইয়েদুল মুরসালীন এবং সৃষ্টি জীবের মধ্যে অদ্বিতীয়। শুধু তাই নয় তাঁর বিয়েতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সাধারণ ভাবে প্রচলিত নিয়ম বিধানের ব্যাতিক্রম ঘটিয়ে স্বয়ং তা সম্পন্ন করে দিয়ে তার প্রতি এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। নাবীজীর সা: অন্যান্য বিবিদের নিকট যায়নাবের রা: এই উক্তি “তোমাদের বিবাহ তোমাদের অভিভাবকগণ দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে; কিন্তু আমার বিবাহ স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আকাশে সম্পন্ন করেছেন।” দ্বারাও এ প্রমাণ পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় আয়াত দ্বারা প্রমাণিত মাস’আলাটির বর্ণনা এই যে, তৎকালীন বর্বর যুগের সমাজ পৌষ্যপুত্রকে যাবতীয় বিষয়ে প্রকৃত পুত্রতুল্য মনে করতো। তালাক দেয়া এবং বিধবা হওয়ার পর যেমন পিতা পুত্র বধুকে বিয়ে করতে পারে না তেমনি পালিত পিতাও সেরুপ পালিত পুত্র বধুকে পরিণয়সুত্রে বরণ করতে পারে না।
যায়েদ বিন হারেসা জনৈক ব্যক্তির কৃতদাস ছিলেন। মহানবী সা: তাকে ওকাজ নাকম বাজার হতে ক্রয় করেন এবং পরে তাকে মুক্ত করেন তখন তার বয়স ছিল অল্প। যায়েদ মহানবীর সা: বাড়িতে পৌষ্য পুত্র হিসেবে বারিত হন। আররবাসীদের নিয়মানুযায়ী মক্কাবাসীগণ তাকে زيد بن محممد (যায়েদ বিন মুহাম্মদ) বলে সম্বোধন করতে লাগলো। কিন্তু রাব্বুল আলামীন এর ইচ্ছ একেবাবে সমাজ থেকে সেটি মুলোৎপাটন করার উদ্দেশ্যে নাযিল করা হলো এই দুটো আয়াতকে: ….
বহু দিনের শিকড় গাড়া এ কুপ্রথা সমাজ থেকে উৎখাত করার জন্য প্রয়োজন ছিলো এমন এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপের যাতে এ কুপ্রথা সমূলে উৎপাটিত হয়ে সমাজ কলুষমুক্ত হয়ে যায়।
এই জন্যেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর আইন বাস্তবায়নকারী মুহাম্মদ সা: দ্বারা সে দুটো কুপ্রথাকে সমাজ থেকে মুলোৎপাটনের ব্যবস্থা করলেন। এর থেকে সমাজ বা দেশে আইন বাস্তাবয়নের ন্যায় নীতির শিক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। আর তা হলো আগে নিজে পালন করা বা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
ادغوهم لأبيهم আয়াতটি নাযেল হওয়ার পর সাহাবীগণে যাযেদকে রা: যায়েদ বিন মুহাম্মদ নামে সম্বোধন করা পরিহার করলেন। এত যায়েদের রা: মহাবনীর সা: সাথে পৈত্রিক সর্ম্পক বিচ্ছেদ হলো। এ বিরহ বেদনা তিনি কি পরিমান কাতর হয়ে পড়েছিলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে নিম্নোক্ত একটি ঘটনা থেকে কিছুটা অনুমেয়। ঘটনাটি হাদীসগ্রন্থ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ, মুসনাদ আহমাদ, ইবনে মাজাহ, হাকেম, ইবনু খুযাইমাহ, ইবনু হিব্বান, ইমাম শাফেয়ী, বাইহাকী, আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস, আনাস বিন মালেক, সাহাল বিন সা’দ, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এবং আবু ই’য়ালাতে আছে।
ঘটনাটি এই
মসজিদে নববীর জন্য মিম্বর তৈরীর পূর্বে মহানবী (সা) খেজুরের শুকনা কাজে ঠেস দিয়ে খুতবাহ প্রদান করতেন। পরবর্তীতে মিম্বর তৈরী হয়ে গেলে সেটি মসজিদে যথাস্থানে রাখা হলো। আর সে শুকনা খেজুরের কাওটি মসজিদের এক কোণে রাখা হল। একদিন আল্লাহর রাসূল (সা) খুতবা আরম্ভ করেছেন, তখন ঐ কোণে রাখা খেজুরের কারটির আওয়াজ আসতে আরম্ভ করল। প্রত্যক্ষদর্শীগণের কেউ বলেন যে, সে আওয়াজটি দশ মাসের গর্ভবর্তী উটনীর আওয়াজের মত ছিল। আবার কেউ বলেন যে, সন্তানের কান্নার মত ছিল সে আওয়াজটি। কেন তার এ আহাজারী কি কারণে সে কাঁদলো? এর কারণ খোঁজ করে পাওয়া গিয়েছিল যে, সে আজীবনের মত মহানবীর (সা) স্পর্শ করা এবং আল্লাহর যিক্র শ্রবণ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো, এই বিরহ বেদনায় কাতর হয়েই এইরূপ কান্নার আওয়াজ করেছিল। বোধ শক্তিহীন, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি-হীন একখানা শুকনো কাঠ যদি এই বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে না পারে। তাহলে সৃষ্টির সেরা মানুষ কিভাবে এই বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে পারে। কিন্তু যায়েদ (রা) ছিলেন ধৈর্য্যের আধার। বিরহ বেদনায় উথলে উঠা আহাজারীর হাজারো ঢেউ সামলে নিলেন তিনি অকাতরে। আর আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত এর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হয়ে সর্বাধিক উৎকৃষ্ট সম্মানিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ‘মহানবীর পুত্র’ এই সম্পর্ককে ছিন্ন করতে সম্মত হয়ে গেলেন তিনি। এ জন্যে রাব্বুল আলামীন তাঁকে তাঁর এ ত্যাগ ও কৃতিত্বের জন্য এক মহা পুরস্কারস্বরূপ তাঁর নামটি মহাগ্রন্থ কালামে পাক কুরআন মাজিদে সন্নিবেশিত করে দিয়ে চিরস্মরণীয় করে দিলেন কিয়ামত পর্যন্ত। মুসলমান নর-নারী কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করার সময় বিশেষ করে খাতমে কুরআনের সময় তাঁর নামটিও তেলায়াত করতে থাকবে। এটা এমন একটি তোহফা যে, শ্রেষ্ঠ ও অধিক মর্যাদাশীল সাহাবাও তা থেকে বঞ্চিত আছেন। শুধু তাই নয় পরবর্তীকালে মুসলিম খলীফা যুদ্ধে তাঁকে সেনাপতিত্বের মহান দায়িত্বও অর্পণ করে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন।
দুনিয়ার সকল লোভ-লালসা, স্বার্থের উর্ধ্বে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আদেশ। মুসলমান নর-নারী দুনিয়ার কোন মোহে পড়তে পারে না। সর্বক্ষেত্রে তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আদেশকেই শিরোধার্য মনে করে। এ জন্যেই তারা ইহ-পরজগতে চরম সুখ, শান্তি, মান, ইজ্জত লাভে সক্ষম হন, অন্যরা নয়। এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে উপরোক্ত আলোচনা থেকে। যদি আমরা সেরূপে আমাদের জিন্দেগী তৈরী করতে পারি তা হলে আমরাও ইহ-পরজগতে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি মান-ইজ্জত হাসিলে সক্ষম হবো, অন্যথায় নয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে প্রকৃত মু’মিন হবার তাওফীক দান করুন। আমীন, সুম্মা আমীন,




