জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ এ দেশের আহলে হাদীস ছাত্র-যুবকদের এমন একটি প্লাটফরম, যার মাধ্যমে যুবক ও তরুণরা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস চর্চা, অনুশীলন ও অনুসরণ করার সুযোগ লাভ করছে। পাশাপাশি দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ইউনিভার্সিটি প্রভৃতি শিক্ষাঙ্গণ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদভিত্তিক এর সাংগঠনিক কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় কনফারেন্সে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র সংস্করণ করে জব্বান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তা অনুমোদিত হয়। এই বিভাগটিই বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের অঙ্গ-সংগঠন 'জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ' নামে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী বংশাল জামে মসজিদে তৎকালীন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের মাননীয় সভাপতি প্রফেসর আল্লামা ড. মুহাম্মদ 'আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে দেশের সকল অঞ্চল থেকে আগত আহলে হাদীস ছাত্র-যুবকদের নিয়ে শুব্বানের কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি মুসলিম দেশের সম্মানিত কুটনীতিবিদসহ জমঈয়তের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শক্তিশালী গঠনতন্ত্র সাবকমিটি শুব্বান সংগঠনটির জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে, যা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। সংগঠনটি সূচনা থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আহবায়ক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। অতঃপর ১৯৯৯ সালের ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস এর ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিন ৫ নভেম্বর-১৯৯৯ এ শুব্বানের প্রথম কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে মুহাম্মদ আসাদুল ইসলাম সভাপতি এবং শাইখ এজাজুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মূলত তখন থেকে সংগঠনটি সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় তাদের কার্যক্রমে কিছু উত্থান-পতন ঘটলেও বর্তমানে শুব্বানের নওজোয়ানদের মধ্যে এক অভাবনীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনার জোয়ার বইছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা এবং তৃণমূল সংগঠনগুলোও নব উদ্যোমে কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য যে, এ সংগঠনটির রেনেসাঁ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও শুব্বানের কার্যক্রম শক্তিশালী হতে থাকে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কিছু সনামধন্য কলেজেও সংক্ষিপ্তভাবে হলেও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে শুব্বানকে অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে। এ জন্য উর্ধ্বতন সংগঠন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসকে এগিয়ে আসতে হবে, অর্থাৎ অভিভাবকের সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। 'শুব্বান' শব্দটি আরবী, বিধায় এর অর্থ আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষের কাছেই অজানা। শুব্বান শব্দের অর্থ হলো 'যুবক'। তাই এটাকে ছাত্র-যুবকদের সংগঠন বলা হয়। এই তরুণ ও যুবকদের তাওহীদী সংগঠনটি স্বনির্ভর না হলে এর স্থায়ীত্ব টিকে থাকবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার মনোনীত দীনের দাওয়াত, জনসেবা, পরিবেশ উন্নয়ন, সর্বোপরি দেশ ও সমাজের মানুষের কল্যাণ সাধন ইত্যাদি কার্যক্রম এবং তাদের গৃহীত বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলে দিনের পালাবদলে এক সময় তা নিস্তেজ হয়ে পড়বে। সেজন্য শুব্বানকে স্বনির্ভর হতেই হবে, এর কোন বিকল্প পন্থা নেই।
জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ এর গঠনতন্ত্র ২০০৩ বর্তমানে অনুসরণীয়। এর পৃষ্ঠা-১০, দশম অধ্যায়, ধারা-১৯ (ক)-তে উল্লেখ আছে যে, "জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ এর আয়ের উৎস: "নিজস্ব উৎস যথা প্রকল্প আয়" থেকে। উক্ত ধারার (৬)-তে বলা হয়েছে, "কেন্দ্রীয় পরিকল্পনারআলোকে শরী'আত অনুমোদিত বিভিন্ন খাতে সংগৃহীত অর্থ ব্যয়িত হবে"। এখন কথা হচ্ছে শুব্বান যদি তাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক নিজস্ব উৎস তথা প্রকল্প আয়-এর আলোকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভর না হয়, তাহলে আকাশ থেকে মান্না-সালওয়া নাযিল হবে কী? এ জন্য আয়ের উৎস হিসেবে তাদেরকে নানাবিধ শরী'আত সম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ কাজে অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুনজর থাকা নিতান্তই জরুরী। শুব্বানের গঠনতন্ত্রের উল্লেখিত ১৯ ধারার (খ)-তে বলা হয়েছে। "এ সংগঠন প্রত্যক্ষভাবে কোন বায়তুল মাল গ্রহণ করবে না। তবে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর সকল স্তরে বায়তুল মাল সংগ্রহে কেন্দ্রীয় জমঈয়তকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে।" যেহেতু গঠনতান্ত্রিকভাবে তারা কোন প্রকার বায়তুল মাল সংগ্রহ করতে পারবে না, সেহেতু শরী'আত সম্মত উপায়ে আর্থিক স্বনির্ভরতা তাদের জন্য খুবই জরুরী। কেননা শুধু কর্মীদের মাসিক ইয়ানত, শুভাকাঙ্খীদের দান-অনুদান ইত্যাদি দিয়ে একটি সংগঠন চলতে পারে না, আর চললেও খুড়িয়ে খুড়িয়ে এক সময় হুচট খাবে। তবে দেরীতে হলেও শুব্বান সংগঠনের কতিপয় উৎসাহী যুবকের প্রচেষ্টায় "রুটস্ অর্গানাইজেশন অফ বাংলাদেশ" শিরোনামে একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল ২০০৫ সালে। যদিও এটি সংগঠনের সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত ছিল না। কিন্তু তারা বোধ হয় খুব একটা বেশী এগুতে পারেনি। অতঃপর "শুব্বান ফাউন্ডেশন" নামে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্মস এর সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন এ্যক্ট এ নিবন্ধিকরণ করেছে গত ২০০৮ সালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে উক্ত ফাউন্ডেশনটি সমালোচিত হয়। সে সময় আমি এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আমার যৌক্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলাম। তাছাড়া পত্রযোগে প্রফেসর এ. এইচ. এম. শামসুর রহমান সাহেব "শুব্বান ফাউন্ডেশন” এর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্তব্য লিখে পাঠান।
জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভর এখন সময়ের দাবী। এ দুরূহ কাজটি করতে হলে তাদেরকে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর হিতৈষী এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে এগুতে হবে। এ ধরনের কাজে বাধা আসতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কোন বিকল্প নেই। শুব্বান ফাউণ্ডেশন এর সংক্ষিপ্ত মেমোরেন্ডামটি আমি মনোযোগের সাথে পড়েছি এবং এখনো এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছি। আমার বিশ্বাস তাদেরকে কাজ করতে দিলে এক সময় তারা স্বনির্ভর হবে ইনশাআল্লাহ। আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য তারা নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে: ১. উৎপাদনমুখী প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রস্তুত করে আহলে হাদীস ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় অগ্রসর হওয়া। ২. প্রাথমিকভাবে ছোট ছোট পুস্তিকা প্রকাশ করে তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা এবং পর্যায়ক্রমে প্রকাশনা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা। ৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা। এতে একদিকে শুব্বান যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি সংগঠনটির অর্থনৈতিক ভিতও মজবুত হবে। ৪. ব্যাপক দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে সংগঠনের জনশক্তি তৈরি করা এবং তাদের থেকে সংগৃহীত ইয়ানাত দ্বারা সংগঠনের রিজার্ভ শক্তিশালী করা ৫. ইনকাম জেনারেটিং অন্যান্য প্রজেক্ট গ্রহণ করা। ৬. খিদমতে খালক জাতীয় কাজে অংশগ্রহণ করা এবং এ কাজে অন্যকেও উৎসাহিত করা। ৭. বিভিন্ন রকম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেয়া। যেমন ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেডিকেল টেকনোলজী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। এগুলো ইনকাম জেনারেটিংপ্রজেক্ট এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং শরী'আত সম্মত উপায়ে অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করে খিদমতে খালকের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করা সহজতর হবে।
উল্লেখ্য যে সব প্রজেক্টগুলো ঢাকা কেন্দ্রিক হবে এমনটি নয়। অন্যান্য বিভাগীয় বা জেলা শহরেও এসব কার্যক্রম চলতে পারে। এ কাজগুলো সবাই ভাল চোখে দেখবে না, তবুও পিছনে ফেরা যাবে না, এগুতে হবে। শুব্বান স্বনির্ভর প্রকল্পগুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো অর্জন করতে পারবে। ক. ছাত্র-যুবকদের লেখা-পড়া শেষ হলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের এমন কোন প্রকল্প নেই যেখানে তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া শেষ করে চাকরির সুব্যবস্থা হবে। নইলে তারা যাবে কোথায়? মনে রাখতে হবে, শুধু মসজিদ-মাদরাসায়, ইমাম, খতীব, কাজী এ জাতীয় ভাল কাজের সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকলে চলবে না। সমাজে বা রাষ্ট্রে সর্বক্ষেত্রে স্থান করে নিতে হবে যোগ্যতার বলে। খ. তাদের অভিজ্ঞতা স্বনির্ভর প্রকল্পে অন্যান্য কাজে ও স্থানে ব্যয় করতে পারলে তাতে সমাজ উপকৃত হবে। গ. আহলে হাদীস সমাজে তাদের কদর ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। ফলে সর্বমহলে তারা সমাদৃত হবে এবং জনগণ সার্বিকভাবে এর সুফল পাবে। ঘ. ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র উপকৃত হবে। দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হবে। ঙ . সরকারী ও বেসরকারী (NGO) প্রতিষ্ঠানের সুনজরে পড়বে এবং সাহায্যের হাত এগিয়ে আসবে। চ. শুব্বান শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং মানুষ এর প্রতি আগ্রহী হবে। ফলে কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী বৃদ্ধি পাবে। মানুষের মাঝে যখন কুরআন সুন্নাহ চর্চা বৃদ্ধি পাবে তখন এমনিতেই সমাজ থেকে অনৈতিকতা, পাপাচার, সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ইত্যাদি দূরীভূত হবে এবং শান্তিময় সমাজব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
আরেকটি ব্যাপার মনে রাখতে হবে। স্কুল, এতিমখানা, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু ছেলেরাই লেখা পড়া করে না। পাশাপাশি মেয়েরাও লেখাপড়া করে থাকে এবং বর্তমানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই লেখাপড়ায় ভাল ফল অর্জন করছে। সুতরাং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অর্ধেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ছাত্রীদেরকে কিভাবে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে একত্রিত করা যায় তারও চিন্তাভাবনা করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদেরকে বাদ দিয়ে আহলে হাদীস এর সার্বিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভবন নয়। এ ব্যাপারে শুব্বান তাদের অভিভাবক সংগঠন জমঈয়তের পরামর্শ নিতে পারে। পাশাপাশি আরেকটি কাজ তাদের করতে হবে তা হলো শিশু-কিশোরদের নিয়ে কর্মসূচী। বাংলাদেশে বহু সংগঠন আছে শিশু-কিশোরদেরকে নিয়ে। সরকারী পর্যায়ে শিশু একাডেমী আছে যা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐ সমস্ত শিশু-কিশোর সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান শিশুদের নাঁচ-গান, চিত্রাঙ্কন উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতার আসর, ভ্রমণ, অভিনয়, খেলাধূলা নানাবিধভাবে এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিসের মাধ্যমে শারীরিক-মানসিক উৎকর্ষ করার কাজে লিপ্ত। ধর্মীয় কাজকর্ম ও অনুশীলন ঐ সমস্ত স্থানে উপেক্ষিত। সেক্ষেত্রে শুব্বানের উচিত হবে অভিভাবক সংগঠন জমঈয়তের পরামর্শে দেশের আহলে হাদীস সমাজের শিশু-কিশোরদের এক প্লাটফরমে এনে সহীহভাবে ধর্ম অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করা। শরী'আত সম্মত অন্যান্য ক্রিয়াকর্ম ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বাস্ত বায়ন করা। খেয়াল করার বিষয় যে আজকের শিশু-কিশোররাই ভবিষ্যৎ দেশের ও সমাজের কর্ণধার। তাদেরকে সঠিকভাবে গাইড করতে পারলে তারাই সমাজ ও দেশকে ভালর দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের বর্তমান গঠনতন্ত্রে মহিলাদের বেলায় "খাওয়াতীন" এবং শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে "আতফাল" বিভাগ সংযোজন হয়েছে। কাজগুলো এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে জমঈয়তের একার পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় শুব্বানকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ ইয়াতীম সংগঠন নয়। এর একটি শক্ত অভিভাবক আছে। হতাশা হবার কোন কারণ নেই। শুব্বানের শিশু-কিশোরদের নিয়ে একটি আতফাল বিভাগ থাকা উচিত এবং এর জন্য একজন সেক্রেটারী কিংবা এ জাতীয় পদ থাকা দরকার। এ ব্যাপারে তাদের আসন্ন কনফারেন্সে শুব্বানের গঠনতন্ত্রে। প্রয়োজনীয় সংশোধন সংযোজন অনুমোদন করিয়ে নিতে পারে। আশা করি জমঈয়তে আহলে হাদীসের বিজ্ঞ ও সম্মানিত সকল সদস্য স্বনির্ভর শুব্বানের কাজকর্মে সহযোগিতা করবেন। শুব্বানের নিবন্ধিত অতি সংক্ষিপ্ত "শুব্বান ফাউন্ডেশন” মেমোরেন্ডামটিতে তাদের "এজিএম"-এর মাধ্যমে আরও ব্যাপক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক ক্রিয়াকর্ম বৃদ্ধির জন্য এবং সমাজ সেবামূলক কাজকর্মের সাথে সাথে পরিবেশ বান্ধব প্রকল্পের উল্লেখ থাকা দরকার। স্বনির্ভর শুব্বানের জন্য বিভিন্নমুখী শরী'আত সম্মত কাজকর্মের দিক নির্দেশনা থাকা চাই। যা আছে তা অপ্রতুল মনে হয়। আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা আমাদের ও তাদেরকে তাওফীক দিন (লেখক: মনোচিকিৎসাবিদ,মনোবিজ্ঞানী ও সহ-সভাপতি বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিস)




