পহেলা বৈশাখ: সংস্কৃতি না-কি চাপিয়ে দেয়া অপসংস্কৃতি!

মো. আব্দুল হাই

কোনো জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা সংস্কৃতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তার রুচিবোধ, তার গোড়ার কথা। সংস্কৃতির ধারকের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় তার অস্তিত্বের আলাপন। সুস্থ সংস্কৃতির মগ্নতায় তাড়িত হয় তার মন-মনন। যার মুগ্ধতা তাকে আপ্লুত রাখে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। এই সংস্কৃতিই পরিচয় করিয়ে দেয় তার জাতিস্বত্তার সাথে। এজন্যই সংস্কৃতিকে ধারণ করতে হয় খুঁব যত্নের সাথে।

কিন্তু সেই সংস্কৃতি যদি হয় ধার করা, মিছে প্রলোভনে লুকিয়ে রাখা হয় কোনো এক মহা সত্যকে। তবে কি তাকে সংস্কৃতি বলতে পারি? অথবা, কোনো একটা হীন চক্রান্তকে আড়াল করতে খুব সুকৌশলে চাপিয়ে দেয়া হলে তখন তা হয় অপসংস্কৃতি। তার সাথে যদি যুক্ত হয় অশ্লীলতা, নষ্টতা, ভ্রষ্টতা তখন সেখানে বাসা বাঁধে জাহেলিয়াত। জাতিস্বত্তায় চলে মেরুকরণ। কোনো একটা সুসভ্য, উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সংস্কৃতির জন্য তা তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা। প্রতিনিয়ত তা হয়ে উঠে হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য “পহেলা বৈশাখ” উদযাপন এমনিই একটি অপসংস্কৃতি।

সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির পরিচয়: সংস্কৃতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘চিৎপ্রকর্ষ বা মানবীয় বৈশিষ্ট্যের উৎকর্ষ সাধন। ইংরেজি ঈঁস্ব Culture-এর প্রতিশব্দ হিসাবে সংস্কৃতি শব্দটি ১৯২২ সালে বাংলায় প্রথম ব্যবহার করা শুরু হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সংজ্ঞায় ‘বিশ্বাস, নৈতিকতা, মূল্যবোধ. জীবনের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সংস্কৃতির মূল অনুসঙ্গ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাখ্যার বিপরীত বা বিকৃত রূপই হলো অপসংস্কৃতি। যেকোনো জাতির সংস্কৃতি মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত এবং সেই জাতির সামগ্রিক জীবনাচরণকে প্রতিফলিত করে।

পহেলা বৈশাখ! সংস্কৃতির অন্তরালে: একটা বিষয় খুবই স্পষ্টভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, সংস্কৃতি হবে ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে। আর মুসলিম সংস্কৃতি হলো সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে। যেখানে থাকবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সুসভ্য আচরণ ও উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ। আর আচার-আচরণ, যাপিত জীবন, সভ্যতা-সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ‘ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত। অপরদিকে অমুসলিম, কাফির-মুশরিকদের যাবতীয় আচার-আচরণের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে তাদের কোনো উৎসবের দিন তারা নৈতিকতার সকল শৃঙ্খলকে ভেঙ্গে দেয়। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচরণে তারা লিপ্ত হয়। আর এ সকল কর্মকাণ্ডের প্রধান অনুসঙ্গ হিসাবে থাকে মদ্যপান, ব্যভিচার, জুয়ার মতো ন্যাক্কারজনক বিষয়। আমাদের আলোচ্য পহেলা বৈশাখ কি এগুলো থেকে মুক্ত? অথচ, বৈশাখ মাসের প্রথম দিনতো আর ১০টা দিনের মতোই। এই দিন পালনের মধ্যে বিশেষ কি কোনো তাৎপর্য, সাওয়াব বা পূর্ণতার কিছু আছে; বরং এই দিনকে ঘিরে প্রগতিশীলতার নামে চলে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা কিংবা অশ্লীলতা যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই দিন কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে, দুঃখ কষ্ট দূর হয়, ব্যর্থতার গ্লানি মুছে যায় -এমন বিশ্বাস কি আমাদের ঈমানের সাথে যায়? ইসলাম কি এমন উদ্ভট তত্ত্বকে কোনোভাবে সমর্থন করে? বরং এটি যে আদিম যুগের প্রকৃতি, সূর্য পূজারীদের বিশ্বাস এটিও আমরা ভুলে যাই; সাময়িক আনন্দের খোঁজে। এক্ষেত্রে আমাদের অনেক স্ব-ঘোষিত বুদ্ধিজীবী জাতিসত্তার দোহাই দিয়ে বাঙালি সাজার চেষ্টা করে, মুখে বাঙালি সংস্কৃতির কথা বলে, বাঙালিত্বকে ধারণ করার বুলি আওড়ায়, কিন্তু মর্যাদার ক্ষেত্রে আদৌও কি তারা সেটা করে? অথচ, এরাই আবার সারা বছর চলনে-বলনে, পোশাক-পরিচ্ছদে, ঐতিহ্য-সংস্কৃতিতে ভারতীয়, পশ্চিমা কালচার লালন করে। হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য ও বাংলা ভাষা তাদের কাছে বরাবরই উপেক্ষিত। মূলত তারা মুখে বাঙালি, ফ্যাশনে হিন্দুয়ানী, যাপিত আচরণে পশ্চিমা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পূজিবাদকে লালন করে। যেমন- আজো অফিস-আদালত, দিন-মাস তারিখসহ জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের প্রতিটি স্তরের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইংরেজিকে ধারণ করে চলছে। এটি যে কতবড় একটা প্রহসন, যখন দেখি রক্তের বিনিময়ে পাওয়া মাতৃভাষার দিনটিকেও উদযাপন করে হালের এই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী। এটি চরম পরিহাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

আবার দেখি, আমাদের দেশের কিছু মাথামোটা প্রগতির দাবিদার এই পহেলা বৈশাখকে ‘আবহমান বাঙ্গালী সংস্কৃতি’ বলে জোর দাবি জানায়। তাই এই দিবসকে তাদের সাজানো ছক অনুযায়ী পালন করতে তারা বদ্ধ পরিকর। তাই তারা মঙ্গল শোভাযাত্রা, বিভিন্ন ধরনের হিন্দু দেবদেবীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিক ব্যবহার করে থাকে। অথচ, এই মঙ্গল শোভাযাত্রা নামক অদ্ভুত উৎসব গত ৩ দশক আগেই বিদ্যমান ছিলো না। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল কন্সেপ্টই যেখানে লুকিয়ে আছে ‘অশুর’ নামক এক অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করার মাঝে। যা মূলত হিন্দুদের প্রধান দেবী দূর্গা করে থাকে বলে তাদের বিশ্বাস। তারা এও বিশ্বাস করে যে হিন্দুধর্মের অন্যতম দেবতা ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মই হয়েছে এই ‘অশুর’কে বধ বা ধ্বংস করার জন্য। আসুন দেখি, কতটা নগ্নভাবে এই প্রগতিশীলরা হিন্দুয়ানী কালচারকে ‘আবহমান সংস্কৃতি’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

ক) পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানানোই হয় শির্কী কর্মকাণ্ড দিয়ে- ‘সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূর্য দেবতাকে পূজা করার মাধ্যমে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এখনো সূর্যকে পূজা করার রীতি বিদ্যমান। যেমন- খ্রিষ্টপূর্ব ১৪ শতকে মিশরীয় “অ্যাটোনিসম” মতবাদে সূর্যের উপাসনা চলত। এমনিভাবে ইন্দো-ইউরোপীয় এবং মেসো-আমেরিকান সংস্কৃতিতে সূর্য পূজারীদেরকে পাওয়া যায়। যীশু খ্রিষ্টের কাল্পনিক জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বরও মূলত এসেছে রোমক সৌর-পূজারীদের পৌত্তলিক ধর্ম থেকে। ১৯ শতাব্দীর উত্তর-আমেরিকায় কিছু সম্প্রদায় গ্রীষ্মের প্রাক্কালে পালন করত সৌর-নৃত্য। মানুষের ভক্তি ও ভালোবাসাকে প্রকৃতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টির সাথে আবদ্ধ করে তাদেরকে শির্ক বা অংশীদারিত্বে লিপ্ত করানো শয়তানের সুপ্রাচীন “ক্লাসিকাল ট্রিক” বলা চলে।
শয়তানের এমন কূটচালের বর্ণনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনে তুলে ধরেছেন এভাবে:

 

وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُوْنَ لِلشَّمْسِ مِن دُوْنِ ٱللهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ أَعْمَـٰلَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ ٱلسَّبِيْلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُوْنَ

 

“আমি তাকে ও তার জাতিকে দেখেছি, তারা আল্লাহকে ছেড়ে সূর্যকে সিজদাহ্ করছে এবং শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের জন্য শোভনীয় করেছে।”

খ) বৈশাখকে স্বাগত জানানো হয় এভাবে “এসো হে বৈশাখ! এসো এসো। ‘দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো” ইত্যাদি সম্ভাষণ দ্বারা। যা মূলতঃ আদিম যুগের সূর্য পূজারী ও প্রকৃতি পূজারীদের রীতিনীতি যা স্পষ্ট শির্কের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ ভালো-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল করার একচ্ছত্র ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ

“তাদের অশুভ আলামতের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহরই কাছে রয়েছে। অথচ তাদের অধিকাংশই জানে না।”

গ) ইসলাম সমর্থিত দিনগুলো ছাড়া অন্য কোনো দিনে বিশেষ কোনো কল্যাণ, দুঃখ, কষ্ট, জরা, অগ্নিস্নানে সূচি হবে ধরা তথা পৃথিবী এটি যে কত বড় শির্কী কথা তা সহজেই অনুমেয়। এই বিশ্বাসকে ধারণ করলে আমাদের ঈমান কি ঠিক থাকবে? ইসলামে কি এর সমর্থন আছে? অথচ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,

لِّكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوْهُ‌ۖ فَلَا يُنَـزِعُنَّكَ فِىْ ٱلْأَمْرِ‌ۚ وَٱدْعُ إِلَى رَبِّكَ‌ۖ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُّسْتَقِيْمٍ

“আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি ধর্মীয় উপলক্ষ্যে বা ‘ইবাদত পদ্ধতি যা তারা অনুসরণ করবে। সুতরাং তারা যেনো তোমার সাথে এ ব্যাপারে বির্তক না করে। তুমি তাদেরকে তোমার রবের দিকে আহ্বান করো, তুমিতো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।”

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো বলেন,
“তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।”
এই শয়তানী উৎসবে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন- ইঁদুর- গণেশের বাহন, হনুমান- রামের বাহন, হাঁস- সরস্বতীর বাহন, সিংহ- দূর্গার বাহন, মুয়ূর- কার্তিকের বাহন, গাভী- রামের সহযোগি, সূর্য- দেবতার প্রতীক, পেঁচা- লক্ষ্মীর বাহন ও মঙ্গলের প্রতীক, বিষ্ণুর বাহন হলো ঈগল। এছাড়াও শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত ‘মুখোশ’ ও মূর্তিগুলো হিন্দুদের কোনো না কোনো বিশ্বাসের সাথে যুক্ত। এমতাবস্থায় চিন্তাশীলদের বলছি, সত্যিই কি আমরা বাঙালি সংস্কৃতিকে পালন করছি। নাকি সাংস্কৃতির আগ্রাসনে চাপিয়ে দেয়া হিন্দুধর্ম চর্চা করছি?

একটা কথা স্পষ্ট করে মনে রাখা কর্তব্য যে, আমাদের দেশে আমরা পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান পালনের জন্য যা করছি এটি কোনোভাবেই চিরায়ত বাঙালী সংস্কৃতি নয়। বিশেষ করে মুসলিম সংস্কৃতি তো নয়ই। কারণ পহেলা বৈশাখে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়, তার সবগুলোই হিন্দু ধর্ম-সংস্কৃতি থেকে নেয়া। আর হিন্দু তথা মুশরিকদের কোনো সংস্কৃতির সাথে মুসলিম সংস্কৃতির দূরতমও সম্পর্ক থাকতে পারে না। এই উৎসবকে স্বাগত জানানোর নাম করে পটকা ফুটিয়ে, আতশবাজি পুড়িয়ে, গভীর রাত পর্যন্ত তরুণ-তরুণীদের উচ্ছৃঙ্খল সহবস্থান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, গান বাজনা, হৈ-হুল্লোর করে সময় কাটানো কোন সভ্য সমাজে আছে? শুধু তাই নয়, ক্লাবে ক্লাবে অশ্লীলতা, নেশায় বঁুধ হয়ে যাওয়া, মদ্যপান, নোংরামী, ব্যভিচারের দিকে ধাবিত হওয়া, রেডিও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন, বিশেষ ক্রোড়পত্র, ‘রাশিফলের মাধ্যমে ভাগ্য গণনা এগুলো কি কোনো সুস্থ বিবেকের কাজ?

আমরা আরো একটি বিষয় পরিস্কার করে বলতে চাই, এখানে যেমন দূরভিসন্ধি খোঁজ করা অবান্তর, তেমনি এটি নিয়ে রাজনীতি করাও কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। কারণ ইসলামে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতাও দেখিয়েছে সবচেয়ে বেশি। আর আবহমান কাল থেকেই বাঙালি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেভাবে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, সম্প্রীতির সাথে যেভাবে পালন করে আসছে, তা পৃথিবীর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় নযীরবিহীন।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, হিন্দু তথা মুশরিকদের সংস্কৃতিকে ঢালাওভাবে বাঙালি সংস্কৃতি বলে চাপিয়ে দেয়া হবে। যদি কেউ এটিকে সরাসরি হিন্দুদের সংস্কৃতি বলে, তবে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। যেমন- থাকে না তাদের দূর্গাপূজা, স্বরস্বতী পূজা, কালী পূজাসহ বিভিন্ন পূজা পার্বনের ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি তাদের সংস্কৃতির একটি অংশকে ঢালাওভাবে গোটা জাতির সংস্কৃতি বলে চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে এখানে শুধু আপত্তি নয়, ঘোর আপত্তিসহ আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে কোনো এক সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি বা উৎসবকে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত করা বা চাপিয়ে দেয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য মনে করি না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইসলামী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্ম হলো তার যাবতীয় কার্যক্রম পালন হবে শির্ক ও বিদ‘আতমুক্ত। কারণ, এই দু’টো অপরাধ এতো মারাত্মক যে এগুলোর অনুশীলন করলে তা কোনোভাবেই ‘ইবাদত হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর মুসলিমদের যাবতীয় কাজই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেই ‘ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে।

এখন আমাদের প্রশ্ন হলো- উৎসবের নামে মুসলিমদের জন্য এসব প্রতীকের ব্যবহার আদৌ কাম্য কি? অথবা এগুলো কি শরী‘আতসম্মত বা শির্ক বিদ‘আতমুক্ত? ভেবে দেখা দরকার। অথচ এরকম একটি নোংরা ও শির্কপূর্ণ সংস্কৃতিকে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্নভাবে প্রচার করে একে জাতীয় দিবসে রূপান্তরের চেষ্টায় লিপ্ত। আর তারা এই বিষয়টিকে প্রলেপ দেয়ার জন্য বলে থাকে- “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” কিন্তু আমরা আমাদের বিবেকবান ভাইবোনদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, মুসলিম হিসাবে আমরা কি হিন্দুদের পূজা-পার্বণের মতো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারব- যখন এসব অনুষ্ঠানের সাথে শির্ক বা অংশীদারিত্ব জড়িয়ে আছে? অথচ মুসলিম হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হলো, শরী‘আত বিরোধী বিশেষ করে শির্ক ও বিদ‘আত মিশ্রিত সকল পথ ও পদ্ধতিকে পরিহার করে ইসলামী সংস্কৃতির আলোকে জীবন পরিচালনা করা। এক্ষেত্রে কোনো ছাড়ের বা কাটছাটের সুযোগ নেই। এটা আমাদের ভাবনায় থাকা দরকার।

বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গের দিকে নযর দিতে চাই- কথিত বাঙালি সংস্কৃতির ধারক বলে যারা বছরের এই দিনে সাম্য, মৈত্রী, আর মানবতার কল্যাণের জন্য শপথ নেয়, ভ্রাতৃত্বের কথা বলে বড় বড় বুলি আওড়ায়, তারাই এই দিনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিলাশী “পান্তা-ইলিশ” খাওয়ার অসম প্রতিযোগিতায় নেমে লক্ষ লক্ষ ক্ষুধিত দরিদ্র তথা “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” শ্রেণীর সাথে এক নিষ্ঠুর, রসিকতায় মেতে উঠে- যা হাস্যকর প্রহসন বটে!

এছাড়া যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এই, ইসলাম নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা কোনোভাবেই সমর্থন করে না। উপরন্তু তা যদি হয়, কোনো বিজাতীয় সংস্কৃতির ডামাডোলে তাতো আরো ভয়ঙ্কর। কারণ এসব সংস্কৃতির সাথেই জড়িয়ে আছে নগ্নতা, উলঙ্গপনা, বেলেল্লাপনার মতো খারাপ দৃষ্টান্ত আর প্রগতিশীলতার নামে উদ্দাম অশ্লীলতা। চলুন এই নোংরা সংস্কৃতির কিছু ভয়াবহ বাস্তব চিত্র নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। পহেলা বৈশাখ তথা বৈশাখ মাসকে কেন্দ্র করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে বিশেষ বিশেষ কিছু জায়গায় ভয়ংকর অপরাধ, পাপাচার, নোংরামীর এক পসরা সাজায় একদল বিভ্রান্ত মানুষ। শুরুটা হয় সেই রমনার বটমূল থেকে। আমরা দেখি নানান জায়গায় নানান রকমের অশ্লীল বিজ্ঞাপণ, মাইকিং করে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। আর এসব তথাকথিত ঐতিহ্যবাহী মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো জুয়া, নেশা ও নাচ গানের আসর। দিনব্যাপী, সপ্তাহব্যাপী এমনকি মাসব্যাপী চলমান এসব জুয়া ও মেলার আসরে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন চলে, বিভিন্ন জায়গায় মদ, গাজা বা অন্যান্য নেশাদার দ্রব্যের দিব্যি কেনাবেচা চলে। বিশেষ করে কিছু মাজার, গানের আসর তো এর জন্যই বিখ্যাত। কুষ্টিয়ার লালনের মাজার যার বাস্তব নমুনা। আর রাতভর উচ্চ আওয়াজে নাচ, গানসহ চরম অশ্লীলতায় ভরপুর থাকে এসব মঞ্চ। যা হাজারো যুবককে নিঃশ্ব করে দেয়, স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয় সম্ভাবনাময় অসংখ্য যুবকের। আর চরিত্র হননের এক অসম প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে তথাকথিত প্রগতিশীলরা।

আমাদের আহ্বান! হে তরুণ তোমার কাছে। টালমাটাল ঈমান আর লক্ষ্যে অলক্ষ্যে হাজারো ফিৎনার আক্রমণে বিপর্যস্ত পথিক তুমি! একটিবার ভাবো, একটু চিন্তা করো! নিজের সুস্থ বিবেকের কাছে সপেঁ দাও তোমার প্রগতিশীলতার অসুস্থ হৃদয়কে। তোমার মনোজগতে ক্ষণে ক্ষণে আঘাত করা বিবেকের দংশনকে মূল্যায়ণ করো। কতশত অপরাধের ফিরিস্তি তোমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে! সেগুলো কি তোমার স্বত্তাকে জাগিয়ে দেয় না? হয়তো তোমার পরিবার, আপনজন, বন্ধু-বান্ধবের কতজন হারিয়ে গেলো এমন নোংরামীর পঙ্কিল কর্দমায়। যারা জুয়ার আসরে সব হারিয়ে নিঃশ্ব আজ তারাও তো তোমার কোনো না কোনো আপনজন! যে যুবকটি ভয়ংকর নেশার ফাঁদে পরে তার অমিত সম্ভাবনাময় যৌবনকে ধ্বংস করে দিতে চায় সেও তো তোমার চিরচেনা জন। যে যুবকটি অশ্লীল বাদ্য-বাজনা, গানের তালে তার হিমাদ্রীসম দৃঢ় চরিত্রকে ভঙ্গুরতায় মেশাতে যাচ্ছে খুঁজে দেখো প্রিয় ভাই সেও তোমার হয়তো ঘনিষ্ট কেউ। তুমি কি এখনো চুপ থাকবে? নিরবতায় কাটাবে তোমার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে। জবাবদিহিতার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে চাও তুমি অভাগার মতো! জুয়া, গানের আসর, যাত্রাপালা, নেশার অবাধ প্রসারেও তুমি নিশ্চুপ! যে তরুণ-তরুণীটি জীবনের অকৃত্রিম সৌন্দর্যকে হারিয়ে ফেলছে তাদের জন্য কি তোমার কিছুই করার নেই। তুমি কি দেখছো না কত মুসলিম যুবক মুশরিকদের উৎসবকে ধারণ করে অন্ধকারে হারাতে চায় তাদেরকে আলোতে ফেরাবে কে? ধর্মহীনতার গভীর চোরাবালিতে যারা তলিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে টেনে তুলবে কে? এই যে প্রতিনিয়ত তুমি এই দু‘আ পাঠ করো, কিন্তু তার বিপরীতে অন্যের কাছে তোমার চাওয়া-পাওয়া, মঙ্গল কামনা তবুও কি তুমি জাগবে না।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ، اللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ.

অর্থাৎ- এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, সার্বভোমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই। আপনার কাছে (সৎকাজ ভিন্ন) কোনো সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।

হে ভাবুক মন! তুমি যখন নির্ভার হয়ে প্রগতিশীলতার নাম করে বিজাতীয় কালচারকে ধারণ করো, তোমার মন কি তখন লজ্জায় একটিবার কুন্ঠিতও হয় না? তুমি কি জানো না ধুতি, নেংটি, রাখী ইত্যাদির যে প্রচলন তা স্পষ্টতঃ হিন্দুদের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি। তুমি যাতে মেতে আছো তার প্রতি পদে পথে অশ্লীলতা, বেহায়াপনার হাতছানী। এই যে একদিনের তথাকথিত চিরায়ত সংস্কৃতি পালন করতে গিয়ে ঢোল-তবলার তালে ছেলে-মেয়ে একসাথে নেচে গেয়ে, রং ছড়িয়ে, উল্কি একে, বিভিন্ন পশু-পাখির মুখোশ পরে যেভাবে অশ্লীলতার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছো তা কি কোনোভাবেই ভদ্রজনচিত? তোমার কর্ণকুহরে কি কুরআন সুন্নাহ’র পবিত্র বাণীগুলো পৌঁছায় না? এসো দেখে নাও কিছু অমোঘবানী।

ক) মঙ্গল শোভাযাত্রা, সূর্যের পূজা, দেবতাদের বিভিন্ন বাহন স্পষ্ট শির্ক: মহান আল্লাহর বাণী,

إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِيْنَ مِنْ أَنْصَارٍ

“নিশ্চয়ই যে কেউই আল্লাহর অংশীদার স্থির করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, আর তার বাসস্থান হবে অগ্নি এবং যালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।”

খ) অশ্লীলতা, মদ জুয়া, বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মাতের কিছু লোক এমন হবে, যারা যিনা, সিল্ক, (পুরুষের জন্য) মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।”

গ) মুসলমানের ভালোমন্দ, চাওয়া-পাওয়া, ‘ইবাদত-বন্দেগী শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্যই। দেখুন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ

“জিন্ ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ‘ইবাদত করবে।”

হে চিন্তাশীল! যুগে যুগে তথাকথিত প্রগতিশীল বাতিলপন্থীরা তোমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর অপবাদের খড়গহস্ত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শত প্রচেষ্টাতেও তারা তোমাদের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারেনি। তাইতো তারা কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে তোমার উপর অপসংস্কৃতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। যার সাময়িক উন্মাদনায় তুমি আপ্লুত। হয়তো তুমি না জেনেই এমন নোংরা, বর্বরোচিত, তথাকথিত প্রগতিশীল শির্কী কর্মকাণ্ডে ভরপুর এমন উৎসবের প্রতি উৎসাহ বোধ করো। এমনটি করলে বলতেই হবে যে, তুমি অনুভূতিশূন্য প্রাণী, জড় পদার্থের ন্যায় তোমার আচরণ। অথবা তুমি নিফাকীর মতো দোষে দুষ্ট।

অতএব হে সত্যের ঝাণ্ডাবাহী! সূরা আ-লি-‘ইমরান-এর ১০৪ নং আয়াতের নির্দেশনা মোতাবেক তোমাদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে এগিয়ে আসতে হবে এমন অপসংস্কৃতির প্রতিরোধকল্পে। কারণ তোমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে যে, তোমরা মুসলিম। আর এই একটি মাত্র পরিচয়ই তোমাদেরকে সকল অন্যায়-অনাচার, ভণ্ডামী-পাপাচার, শঠতা-প্রবঞ্চনা, দৈন্যতা-সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করবে। তাই এসো! আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা যেন উল্লসিত না হই এমন দিনে, কোনোভাবেই যেন অংশগ্রহণ না করি এমন উৎসবে। শুধু তাই নয়, বন্ধুদের, বোনদের, সর্বোপরি কাছের মানুষদের যেন সাবধান করি, অনুভূতি শূন্য হয়ে যেন জড়িয়ে না পড়ি এমন নিষ্ঠুর শির্কপূর্ণ উৎসবে।

হে প্রিয় সত্যনুসন্ধানী!
তোমরা যে আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যকে তোমাদের হৃদয়ে ধারণ করো, তার আলোকচ্ছ্বটা যে দীপ্তিমান নক্ষত্রের ন্যায়। আর তার তেজোদীপ্ত আলোকময় জ্যোতিতে সকল অন্যায়, অবিচার, আর অসত্য অপসারিত হয়ে ইসলামের আলোয় আলোকিত হবে বিশ্বজাহান। সেই সাথে তোমরা দৃঢ় বিশ্বাসে কৃত সংকল্পে অটুট থাকো এই ভেবে যে, পদানত হবে সকল অপসংস্কৃতি, আর উড্ডীন হবে নিষ্কলুস আদর্শ সংস্কৃতির ঝাণ্ডা। মহান আল্লাহকে ভয় করো। তার অবাধ্যতার ফলাফল সম্পর্কে সর্তক হও। শয়তানের কুটচালগুলোর প্রতিরোধকল্পে সংকল্পবদ্ধ হও। তোমার অবস্থান যেনো কোনোভাবেই রাসূল (সা.)-এর সেই সর্তকবাণীর তালিকায় না পড়ো, তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশমী বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলে জ্ঞান করবে।”

এই যে কঠোর সর্তকবার্তা যেখানে রয়েছে শির্কপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি, নগ্নতা, অশ্লীলতায় ভরপুর, বাদ্যযন্ত্রে পূর্ণ, আর অনর্থক বাজে কাজে, সময় অপচয় তা থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা কি করবে না? এসো তবে তোমার পরিবার, সমাজ, বন্ধুবান্ধবকে সত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য দিয়ে সর্তক করো। আর পূর্বে যা ভুল করেছো তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। এই যে দেখো ক্ষমার ফলে আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য কি প্রস্তুত রেখেছেন।

 

وَسَارِعُوْٓا إِلٰى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا ٱلسَّمٰوٰتُ وَٱلْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِيْنَ

“এবং তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার পরিধি আসমান ও জমীনব্যাপী, যা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহভীরুদের জন্য।”
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সকল অপসংস্কৃতি থেকে বাঁচার তাওফীক্ব দান করুন -আমীন।

https://quraneralo.com/banglanewyear
সূরা আন্ নামল: ২৪।
সূরা আল-আ’রাফ : ১৩১।
সূরা আল-হাজ্জ: ৬৭।
সূরা আল-মায়িদাহ্: ৪৮।
সংস্কৃতির রূপান্তর- শাহ আব্দুল হালিম, নয়া দিগন্ত, ৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৬, পৃ. ৭।
সহীহুল বুখারী- ই. ফা. বাং, হা. ৮০৪।
সূরা আল-মায়িদাহ্ : ৭২।
সহীহুল বুখারী- ২/৮৩৭ পৃ.।
সূরা আয্-যা-রি‘আ-ত : ৫৬।
সহীহুল বুখারী- হা. ৫৫৯০।
সূরা আ-লি-‘ইমরান: ১৩৩।

Facebook

ড্যাশবোর্ড

পাঁচ দফা কর্মসূচি

তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।

ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।

যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।

অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন

আপনার সহযোগিতা জমা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

একখনি করুন