ইরান ইসরাইল যুদ্ধে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান জরুরি

iran-israel-juddhe-varsamyapurno-obosthan-joruri

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে বোঝা দরকার। ইসরাইলইরান-উভয়ই আঞ্চলিক শক্তি, এবং উভয়ের নীতিই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক, সংঘাত ও বিভাজনের কারণ হয়েছে। তাই অন্ধ সমর্থন বা অন্ধ বিরোধিতার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

১. ইসরাইল শুধু মুসলিম বিশ্বের নয় বরং পৃথিবীর শত্রু। পৃথিবীতে এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করে না। ইসরাইল শুধু মাধ্যপ্রাচ্য নয়, পৃথিবীর ক্যান্সার। ইসরাইলকে ভালোবাসা, তার পক্ষাবলম্বন করা বা তার অন্যায়ে নিরব থাকা সামান্য ঈমান বা মানবতা আছে এমন কারো পক্ষে সম্ভব নয়। যারা এমনটা করে নিঃসন্দেহে তারা বেইমান, মুরতাদ, অমানবিক, পশু।

২. শিয়া অধ্যুষিত ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সুন্নি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সিরিয়া যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ সুন্নী মুসলিমকে তারা জবাই করেছে। যে সুলাইমান কাসেমীর জন্য আমাদের তরুণরা আর্তনাদ করে সেই সুলাইমান কাসেমী লক্ষ লক্ষ সুন্নি মুসলিমের হত্যাকারী। মধ্যপ্রাচ্য ইরানের প্রভাব বিস্তার মানেই মক্কা-মদিনা দখল করা, সুন্নী মুসলিমদের উৎখাত করা।

৩. সৌদি আরব স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা তাদের আকাশ ব্যবহার করে ইরানের উপর হামলাকে সমর্থন করবে না। রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই বলি বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণেই বলি, সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানের সাথে তার শীতল সম্পর্কের বরফ গলিয়ে উষ্ণ করার চেষ্টা করেছে।

৪. মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য ইরান এবং ইসরাইল দুটিই হুমকি। যেকোনো একটি প্রভাব মুসলিমদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। এটাই বাস্তব। দুটারই যদি শিকড় উপরে ফেলা যেত তবেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি বিরাজ করত। কিন্তু সেটা প্রায় অসম্ভব।

৫. ইসরাইল বহিঃশত্রু। ইরান গৃহশত্রু। তবে দুটাই শত্রু। কম আর বেশি। ইতিহাস তাই বলে। কার ধ্বংসে মুসলিমদের বেশি আনন্দ প্রকাশ করা দরকার তা আপেক্ষিক। যে উসমানীয় সালতানাতের সিরিজ দেখে ভাইয়েরা নিজেকে উসমান, আর সুলতান সুলেমান কল্পনা করে, সেই উসমানী সালতানাতের পিঠে ছুরি বসিয়েছিল শিয়ারা। এই ইতিহাস তাদের কদাচিৎ অবগত নয়। না হলে এত পাগলামী করা সম্ভব নয়।

৬. আপনারা যে খামেনীর জন্য গায়েবানা জানাজা পড়লেন, বিক্ষোভ মিছিল বের করছেন, ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগদানের জন্য রাজপথে হুঙ্কার দিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই খামেনীর নির্রদেশেই লক্ষ লক্ষ সিরিয়ান, লেবাননী মুসলিমদের হত্যা করা হয়েছে। এর জন্য আপনাদের দরদ কই?

৭. নিশ্চয়ই ইরানের বীরত্ব ও দেশাত্মবোধ আশ্চর্যের বিষয়। আমেরিকার স্যাংশন খেয়েও বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক সংকটে থেকেও যে বিশাল অস্ত্রের মজুদ সে তৈরি করেছে তা প্রশংসিত। একদল জানবাজ, দক্ষ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত সৈনিক তারা প্রস্তুত করেছে তা লক্ষ্য করার মতো। তারা বিলাসীতা পরিত্যাগ করে দেশ রক্ষার জন্য হাজার হাজার মিসাইল, ড্রোন বানিয়েছে, আমেরিকান ব্লকের সাথে এগিয়ে গেছে, চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে- যা সাধারণ মুসলিমদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। কারণ আমেরিকা- ইসরাইল দুনিয়ায় এমন নরপশুতে পরিণত হয়েছে, যে বা যারাই তাদের বিরুদ্ধে যাবে তারাই জনসমর্থন পাবে।

৮. অন্যদিকে আরব বিশ্বের অকল্পনীয় বিলাসীতা, আমিরাত, দুবাইয়ে অশ্লীলতা -বেহায়াপনার সয়লাব, হলিউড বলিউড তারকাদের সেকেন্ড হোম হিসেবে দুবাইয়ের পরিচিত হওয়া ইত্যাদি বিষয় পাবলিক মিডিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে রিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এটাই বাস্তব।

৯. ইরানের বর্তমান রেজিম পরিবর্তনের আভাস পেয়ে খুশিতে অনেকেই আহম্মকের মতো দাঁত কেলিয়ে হাসছে। সামান্য রাজনৈতিক জ্ঞান থাকলে এমন হাসির কোনো কারণ থাকতে পারে না। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বেলায় একই কান্ড ঘটেছিল। তার পতনের জন্য অনেকেই ফতোয়া রেডি করেছিলেন। ফতোয়া হয়তো ঠিক। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানের হিসাব মারাত্মক জটিল। ফলাফল কি হলো? সাদ্দামের পতনে একটি সুন্নী রাষ্ট্রের পতনের মধ্য দিয়ে একটি শীয়া রাষ্ট্র জন্মলাভ করল। শিয়াদের উৎপাত বৃদ্ধি পেল। সুন্নীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।

১০. মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা করে ইরান যে ফায়দা হাসিল করতে চায় তা তাকে বন্ধুহীন করে দিবে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সৌদির আরামকোয় হামলা করেছে ইরান। যেখানে হাজার হাজার বাঙালি জীবিকা নির্বাহ করে। ইরান নিজেই নিজের শত্রু বাড়িয়ে তুলছে। ১১. ইরানের পতনের পর নেক্সট টার্গেট পাকিস্তান। এরপর তুরস্ক। এরপর? নিঃসন্দেহে আরব বিশ্ব। কারণ তারা মুসলিম। এটাই তাদের বড় অপরাধ। কাজেই আমাদের অবস্থান ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে। আবেগেই গা ভাসানো নয়, আবার শুধু কয়েকটি ফতোয়া একত্রিত করে চলমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়াও নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সাদা-কালো নয়। এখানে ধর্ম, ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শক্তির স্বার্থ জড়িত। অতএব, ইরান বা ইসরাইল-কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন বা অন্ধ বিদ্বেষ নয়; বরং ন্যায়, মানবিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে অবস্থান নেওয়াই বিচক্ষণতার পরিচয়।

Facebook

ড্যাশবোর্ড

পাঁচ দফা কর্মসূচি

তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।

ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।

যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।

অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন

আপনার সহযোগিতা জমা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

একখনি করুন