রাসূলুল্লাহ-এর আদর্শ ও শুব্বান সদস্য

ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইব্রাহিম

রাসূলুল্লাহ ১৪ বছর বয়সে সেই আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগে গড়ে তুলে ছিলেন সমাজ। কল্যাণমূলক সেবাসংঘ “হিলফুল ফুযুল”। বলা বাহুল্য একটি সংগঠন সমাজে অনেক অবদান রাখতে পারে। এবং বিবিধ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একাকী অনেক কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই জামা’আতবদ্ধ জীবন যাপনের গুরুত্বও অপরিসীম। সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত থাকতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا

   “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩: ১০৩)। মানুষ যখন দলবদ্ধ জীবন যাপন করে তখন সেখানে মানুষের সম্মিলিত চিন্তা, শক্তি ও পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটে, ফলে অসাধ্যকেও সাধন করা সম্ভবপর হয়। সে জন্যই ইসলামী সংগঠনসমূহে মাজলিসে শূরার ব্যবস্থা রয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন হবে। এভাবে শাসনকার্য বা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করা যেতে পারে। এছাড়া নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে থেকে দেশ ও সমাজের সেবা করার সুযোগ তো থাকছেই।

বিভিন্ন দেশে এরূপ সংগঠন বিদ্যমান, যারা নিজ নিজ দেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যেমন-কাউন্সিল অব আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স, ইউ,কে, ফরেন অফিস ও মিশর মুসলিম ভ্রাতৃসংঘ। ফ্রান্সের মন্ত্রী এ্যালেন যুপ্পেও এরূপ যুগ্ম সংগঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমেরিকার আরো রয়েছে U. S. Islamic World Forum, বারাক ওবামার রয়েছে Faith Advisor, বর্তমান ফেইথ এ্যাডভাইজরের নাম ডালিয়া মুজাহিদ (Dahlia Mozahed), শুধু ইসরাইল বাদে সব দেশেই এরূপ কিছু না কিছু সংগঠনের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে, ইসরাইলের ভূমিকা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিরোধী।

যাহোক, জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস এরূপ একটি শক্তিশালী সংগঠন এবং তার প্রতিটি সদসাই রাসূল-এর আদর্শে বলীয়ান। তারা বাংলাদেশে যুবসমাজের মাঝে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নির্ভেজাল দা’ওয়াতী অব্যহত রেখেছে। ফলে ক্ষুদ্রাংশ হলেও সমাজের যুবকশ্রেণী সকল প্রকার অনৈতিকতা, অপসংস্কৃতি এবং পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে তাওহীদী জীবন যাপনের সুযোগ লাভ করছে। আজকে সমাজে যে অবক্ষয় তা নৈতিক বা রাজনৈতিক বলুন অথবা সাংস্কৃতিক বা সামাজিক সর্বক্ষেত্রেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে যুব সমাজকে। এজন্য প্রতিটি শুব্বান সদস্যকে রাসূল-এর চিন্তা-চেতনা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, বিশ্বস্ততা, ক্ষমা ও মধানুভবতা ইত্যাকার গুণে নিজেকে গুণান্বিত করতে হবে। এ সকল গুণাবলীই রাসূলুল্লাহ-কে সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সুরা আল-আহযাবে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

﴿لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا﴾

   “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনকে ভয় করে ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে, তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ রয়েছে রাসূলুল্লাহর মধ্যে।” (সূরা আল-আহযাব ৩৩। ২১)

রাসূলুল্লাহ-এর গুণাবলীসমূহ পবিত্র কুরআন কত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছে। শুব্বানদেরকে আল কুরআন হতে শিক্ষা নিতে হবে যা তাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটবে।

আল কুরআনে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ-এর গুণাবলী:

নম্রভাবে কথা বলা:

وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَاء رَحْمَةٍ مِّن رَّبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُل لَّهُمْ قَوْلاً مَّيْسُورًا

আর তুমি নিজেই যখন তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণা লাভের প্রত্যাশায় ওর সন্ধানে থাকো তখন তাদেরকে যদি বিমুখ কর, তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭: ২৮)

দম্ভভরে না চলা:

﴿وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا﴾

“ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বতপ্রমাণ হতে পারবে না।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৩৭)

গৃহে প্রবেশের অনুমতি নেয়া:

 ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾

“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারো গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না; এটাই তোমাদের জন্যে শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।” (সূরা নূর ২৪: ২৭)

দৃষ্টি সংযত রাখা ও যৌনাঙ্গের হিফাযত করা:

﴿قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ﴾

“মুমিনদেরকে বলো। তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে; এটাই তাদের জন্যে উত্তম; তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ অবহিত।” (সূরা আন নূর ২৪: ৩০

মানুষকে অবজ্ঞা না করা ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা:

﴿وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ-وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ﴾

“অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কণ্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” (সূরা লুকমান ৩১: ১৮-১৯)

ন্যায় বিচার ও সদাচারণের নির্দেশ প্রদান:

﴿۞ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾

আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরা আন নাহল ১৬: ৯০)

সৎপথ অবলম্বন করা:

﴿وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ ۖ فَمَنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنذِرِينَ﴾

“এবং যেন আমি কুরআন পাঠ করে শোনাই। অতএব যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।”(সূরা আন নামল ২৭:৯২)

কৃপণতা পরিহার করা:

﴿وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُم ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ﴾)

“আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এ কার্পণ্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামাতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান ৩: ১৮০

শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হওয়া:

﴿وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ﴾

“যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ্ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না।” (সূরা আল বাকারা ২: ২০৫)

কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা:

﴿۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ﴾

“তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর আল্লাহ তাদেরকে বললেন, মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।” (সুরা আল বাকারা ২:২৪৩)

﴿وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ﴾

“আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অয়ই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” (সূরা আল-আরাফ ৭:১০)

অজানা বিষয়ে তর্ক না করা:

﴿قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ-وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ﴾

“বলুন। যে আহলে-কিতাবগণ। একটি বিষয়ের দিকে আসো- যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া ঘৃনা কারও ‘ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানায় না। তারপর হদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত। যে আহলে কিতাবগণ। কেন তোমরা ইবরাহীমের বিষয়ে বাদানুবাদ কর? অথচ তাওরার ও ইঞ্জীল তাঁর পরেই নামিল হয়েছে। তোমরা কি বুঝ না?” (সুরা আলে ইমরান ৩:৬৪-৬৫)

অঙ্গীকার পালন করা:

﴿الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ﴾

“(বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ তা’আধ্য যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিদ্র করে আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত।” (সুরা আল বাকারা ২:২৭)

অপচয় রোধ করা:

﴿فَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل رَّبُّكُمْ ذُو رَحْمَةٍ وَاسِعَةٍ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ﴾

“যদি তারা আপনাকে দিখ্যাবাদী বলে, তবে বলে দিন। তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক।তাঁর পাড়ি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না।” (সূরা আল আন’আম ৬:১৪৭)

﴿فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ ۚ قَالَ يَا وَيْلَتَا أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَٰذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْءَةَ أَخِي ۖ فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ﴾

“আল্লাহ এক কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খনন করছিল যাতে তাকে শিক্ষা নেয় যে, আপন ভাইয়ের মৃতদেহ কিভাবে আবৃত করবে। সে বলল। আফসোস, আমি কি এ কাকের সমতুলাও হতে পারলাম না যে, আপন ভাইয়ের মৃতদেহ আবৃত করি। অতঃপর সে অনুতাপ করতে লাগল।”

(সূরা আল মায়িদা ৭:৩১)

আমানত রক্ষা করা:

﴿ وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُم مَّنْ إِن تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَّا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِمًا ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ﴾

“কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন-সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তোমাদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দীনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না- যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মীদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে।” (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩: ৭৫)

ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান ও বিবেক দিয়ে বুঝা:

﴿فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا﴾

“অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন।” (সূরা শামস ৯১: ৮)

পরনিন্দা না করা:

﴿۞ لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا﴾

“আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি যুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ্ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।” (সূরা আন্ নিসা ৪: ১৪৮)

উত্তম সঙ্গী নির্বাচন করা:

﴿وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا﴾

“আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নি’আমত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।” (সূরা আন নিসা ৪: ৬৯)

কুরআন পাঠ করে সে মতো জীবন গড়তে হবে। জীবনপথে চলতে আল্লাহর বাণীই আমাদের পথ দেখাবে। আল্লাহভীরুতা মনে আঁকড়ে ধরতে হবে। সামাজিক দায়িত্ববোধ, পিতা-মাতা, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে যুবকরা আল কুরআনের গুণে গুণান্বিত হলে তারা সমাজ, দেশ তথা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ খিদমত আঞ্জাম দিতে পারবে। যুবকেরা উদ্যোগী হলে ইসলামিক জাতিসংঘ (ইসলামিক ইউ এন ও) স্থাপন করতে পারে।

মুসলিম ঐক্যের সবচেয়ে বড় নিদর্শন বায়তুল্লাহর হজ্জ। পৃথিবীর প্রায় ৬৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের মুসলমান প্রতি বছর মক্কা মুকাররমায় হজ্জের সময় ইসলামী মহামিলনে সম্মিলিত হয়ে থাকেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্র, ভাষা, জাতীয়তা বা ভৌগোলিক সীমানা ভিন্ন ভিন্ন হলেও প্রত্যেক মুসলিম ভাই ভাই। এ সূত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। মুসলমানগণ কীভাবে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে তাও আল কুরআন ও রাসূলুল্লাহর হাদীস শিক্ষা দিচ্ছে।

Wish করা তথা সৌজন্য বিনিময় তথা সালাম আদান-প্রদান করাতো আল্লাহরই নির্দেশ। কুরআন নির্দেশ দিয়েছে:

﴿وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا﴾

“আর তোমাদেরকে যদি কেউ দু’আ করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দু’আ কর। তার চেয়ে উত্তম দু’আ অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।” (সূরা আন্ নিসা ৪: ৮৬)

রাসূলই এ নির্দেশ পাওয়ার আগে থেকেই ছোট-বড় সবাইকে সালাম দিতেন। তিনি শিখিয়েছেন ছোটরা বড়কে সালাম দিবে, আগন্তুক বসা লোকদের সালাম দিবে, কম সংখ্যক বেশী সংখ্যকদের দিবে এভাবে সালামের প্রচলন ঘটাতে হবে। আমার ধারণা সমাজের ঝগড়া-বিবাদ শুধুমাত্র এ সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমেই অনেক লাঘব হয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।

ইসলাম যা শিখিয়েছে তার সঠিক প্রয়োগ এদেশে নেই। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া যে আমি দীর্ঘদিন ধরে মাক্কায় ছিলাম, আরববাসীরা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে ইসলামের শিক্ষাকে কাজে লাগায় তা দেখার সুযোগ হয়েছে। এক্ষণে তার একটি নমুনা পেশ করছি।

যখন এক আরবের অন্যের সাথে দেখা হয় তখন বলেন, আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। জবাব হলো: ওয়া ‘আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। এরপর বাক্য বিনিময়:

কেফ্ হালক (আসলে “কায়ফা হালুকা” হলো সাধু ভাষায়), কেফ হালক হলো দৈনন্দিন ব্যবহৃত আরবী (আল-লুগুতুল আরাবিয়াতুল ইয়াওমিয়াত)। কেফ হালক্ মানে তুমি কেমন আছ? জবাব, বে বেখায়ের আলহামদুলিল্লাহ। তারপর, কেফ্ যওজাব তোমার বউ কেমন আছে? জবাব, বেখায়ের শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্। তারপর, কেফ আওলাদাক?- তোমার ছেলে মেয়ে কেমন আছে? জবাব, না’আম। বেখায়ের, আলহামদুলিল্লাহ্। একই প্রশ্ন তিনটি দ্বিতীয় ব্যক্তি ফিরিয়ে বলবে ও ডান কাঁধে ডান কাঁধ মিলিয়ে ডান গালে এক চুমু আবার বাম দিকে আরেক চুমু। ব্যাস তারপর মুসাফা।

নাবী(সঃ)এর সব সুন্নাত ডান দিক দিয়ে। ডান হাতে খাও, জুতা পরো ডান পায়ে, রাস্তায় চলো ডান দিক দিয়ে, গাড়ী ঘোড়া চালাও ডান দিক দিয়ে। অবশ্য এদেশে গাড়ি চলে বাঁ দিক দিয়ে। ব্যতিক্রম শুধু টয়লেটে ঢোকার সময় আর মাসজিদ হতে বের হবার সময় আগে বাম পায়ের ব্যবহার, অন্য প্রায় সব কিছুই ডান দিক দিয়ে।

লিবিয়াতে আইন করা আছে যতবার দেখা হবে, ততবারই সালাম দিতে হবে। কেউ ড্রাইভারের পেছনে বসবে না, পাশে বসবে। সৌদী আরবেও তাই। গাড়ী থেকে নামার সময় ধন্যবাদ দিতে চাইলে বলতে হয় শুকরান লাকা। ড্রাইভার জবাব দিবে আফুয়ান।

এদেশে সালাম আদান-প্রদানের অবস্থাটি খুবই নাজুক। এক শ্রেণীর আলেম মনে করেন সালাম তাদের প্রাপ্য। তাই সালাম তো দেন না, এমনকি জবাবটাও ঠিকমতো দেন না।

একবার চাঁপাই নবাবগঞ্জ যাব বলে কোচের মধ্যে বসে আছি। এক চ্যাংড়া গোছের মাওলানা জুব্বা টুপি পরে পাশে এসে বসলেন, কিন্তু সালাম দিলেন না। আগন্তুক হিসেবে এটা তার করণীয় ছিল। কিন্তু আমিও বুঝি ভুল করলাম। রাসূল-এর অনুকরণে আমার সালাম দেয়া উচিত ছিল। তো সে নাস্তা বের করে বলল : আংকেল, খান। এভাবে আলাপ চারিতায় জানা গেল, তিনি ইসলামের খোঁজে হাটহাজারীতে ভর্তি হয়েছেন।

কিন্তু ইসলামের খোঁজে সেখানে কেন? কারণ, সেটা নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইউনিভার্সিটি। মাক্কার উম্মুল কুরা, মাদীনাহ্ ইউনিভার্সিটি বা মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির চেয়েও তা বড় কি-না। আমারজানা নেই। শুধু বললাম ইসলামের খোঁজে যেতে হলে যেতে হবে মাক্কায়। মাক্কা মুকাররমায়, সম্মানিত মাক্কায়। যেখানে আল্লাহর ঘর রয়েছে, সে কা’বার নিকটবর্তী দোতালা বাড়ীটা এখম লাইব্রেরী। আল্লাহর রাসূল -এর জন্ম হয়েছে এ নগরীতে, আর পার্শ্ববর্তী হেরা গুহায় কুরআন নাযিল হয়েছে। তাই আপনাকে যেতে হবে ওহী নাযিলের দেশে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার অভিজ্ঞতা মার কাছ থেকে শুনতে হবে, মাসীর কাছ থেকে নয়। তিনি শেষ পর্যন্ত হাটহাজারীতে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তবে অদ্যাবধি সেখানে যাওয়া হয়নি।

পূর্বেই বলা হয়েছে সালাম বিনিময় অনেক অনর্থ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। জেদ্দা শহরে ঘটে যাওয়া এক চাক্ষুষ ঘটনার বিবরণ দিয়ে এ প্রসঙ্গের যবনিকা টানবো।

এটা হলো ট্রাফিক ভায়োলেশান। সবুজ বাতি দেখে সামনের গাড়ী দ্রুতবেগে ছুটছে যাতে সিগন্যালটা পার হওয়া যায়। কিন্তু পার হওয়ার আগেই লালবাতি, ব্রেক-হট্। আমি গাড়ীতে বসে দেখছি। পেছনের গাড়ীটাও ব্রেক করলো তবে তার দু’এক সেকেন্ড পর। ফলে দুম করে আওয়াজ ও পেছনের লাইটের কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ। সৌদী ট্রাফিক পুলিশ খুব তৎপর। সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ীদ্বয় সাইড করা হলো। এদেশে তো প্রথমেই হাতাহাতি, মারামারি। সেখানে দুই গাড়ী থেকে দুই মালিক নামলেন। অতঃপর আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ্। ওয়া ‘আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।

কেফ হালক, কেফ যওযাক, কেফ আওলাদ। এভাবে কুশল বিনিময়ের পর উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেল। হ্যাঁ তুমি আমার সখের গাড়ীটা ভেঙ্গে দিলে, আমার এত টাকা (রিয়াল) ক্ষতি হলো। এভাবে কিছু তর্কাতর্কি। তারপর রফারফি বা সমাধান। এরপর দু’জনে মুসাফাহা করে দু’দিকে চলে গেলেন। ঘটনা এর বেশী আর গড়ালো না। এখানেই সালামের মাহাত্ম্য।

ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। অপরদিকে তা নায্য বা ন্যায় প্রতিষ্ঠার ধর্ম তথা দীনুল হাজ।

আল্লাহ তাঁর প্রতিটি বান্দাকে সৃষ্টি করেন তাঁর নিজের স্বভাবের উপর। তিনি সত্য, ন্যায় ও শান্তির প্রতীক। তাই প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণ করে ইসলামের উপর। পরে হয় সে ইবলীসের প্ররোচনায় বিপথে যায় অথবা ভাল সংসর্গে সৎ ও ন্যায়ের অনুসারী হয়। তার হৃদয় ও বিবেক একটাই। তাই কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তার পার্থক্য সে বুঝতে পারে।

শুব্বান সদস্য প্রত্যেককে জ্ঞান ও বিবেক খাটিয়ে চলতে হবে এবং আল্লাহর স্বভাবের উপর জীবনকে অর্পণ করতে হবে। আল্লাহ যা ভালোবাসেন তাই ভালোবাসতে হবে আর তিনি যা ভালোবাসেন না তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এবার আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা কি ভালবাসেন আর কি ভালবাসেন না কুরআন থেকে তার ফিরিস্তি দিয়ে এ আলেখ্যের যবনিকা টানবো।

যাদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন না:

وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِين

“আল্লাহ যালিমদের ভালবাসেন না।” (সূরা আলে ইমরান ৩: ১৪০)

وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ

“তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না।”(সূরা আল মায়িদাহ্ ৫:৮৭)

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِين

“নিশ্চয় আল্লাহ চুক্তি ভঙ্গকারীদের ভালবাসেন না।” (সূরা আল আনফাল ৮: ৫৮)

والله لا يُحِبُّ المفسدين

“আর আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।” (সূরা আল মায়িদাহ-৫: ৬৪)

إِنَّ اللهَ لا يُحِبُّ الْمُقْدِين

“নিশ্চয় আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে ভালবাসেন না।” (সূরা আল কাসাস ২৮:৭৭)

إِنَّ اللهَ لا يُحِبُّ المستكبرين

“নিশ্চয় তিনি অহংকারীদের ভালবাসেন না।” (সূরা আন নাহল ১৬: ২৩)

إِنَّ اللهَ لا يُحِبُّ الفرحين

“নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না।” (সূরা আল কাসাস ২৮:৭৬)

إن اللهَ لَا يُحِبُّ كُلِّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

“নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা লুকমান ৩১:১৮)

وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلِّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

“আর আল্লাহ উদ্ধত, গর্বিতদের ভালবাসেন না।” (সূরা আল-হাদীদ ৫৭: ২৩)

উপরোক্ত ৯/১০ প্রকারের লোকদের আল্লাহ ভালবাসেন না। অতএব, আমরা এদের ধারের কাছেও নেই।

আবার আল্লাহ নিম্নবর্ণিত ৭ (সাত) ধরনের লোকদের ভালবাসেন। অতএব আমরা তাদের মতই হব এবং তাদের কাছেই থাকবো।

 

আল্লাহ যাদের ভালবাসেন:

وَكَهْلاً وَمِنَ الصَّالِحِينَ

“ধৈর্যশীলদের ভালবাসেন।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান ৩: ৪৬)

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِين

“নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল বাকারা ২: ১৫৩)

وانصرنا على القوم الكافرين

“নেককারদের ভালবাসেন।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান ৩: ১৪৭)

وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

“আর আল্লাহ নেককারদের ভালবাসেন।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান ৩: ১৪৮)

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِين

“নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় বিচারকারীদের ভালবাসেন।” (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫: ৪২)

إن اللهَ يُحِبُّ المتقين

“আর আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।” (সূরা আত তাওবাহ্ ৯: ৪,৭)

وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِين

“নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।” (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১০৮)

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِين

“নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারীকে ভালবাসেন।” (সূরা আল হুজুরাত ৪৯ : ৯)

অবশ্য ন্যায়বিচারকারী ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারীর আরবী এটাই- ‘মুকসিতীন’।

পরিশেষে, কামনা করি জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস এর কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১১ সফল হোক।

-আমীন।

(প্রাক্তন চীফ ইঞ্জিনিয়ার, বিসিআইসি; পি. এম. শেঠ গ্রুপ, সৌদী আরব।)

Facebook

ড্যাশবোর্ড

পাঁচ দফা কর্মসূচি

তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।

ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।

যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।

অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন

আপনার সহযোগিতা জমা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

একখনি করুন