জাতীয় মূল্যবোধ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রণয়ন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী

বিগত জানুয়ারি মাসে (১৯৯৭) সরকার কুদরাত-এ-খুদা কমিশন-এর সুপারিশমালার উপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য চুয়ান্ন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন (কুদরাত-ই-খুদা কমিশনের সদস্য ছিলেন মোট উনিশ জন)। অতীতেও এ জাতীয় অনেক কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তাঁরা অনেক মূল্যবান সুপারিশও পেশ করেছেন। সেগুলো কতটা অনুশীলিত ও অনুসৃত হয়েছে সেটা অবশ্য অন্য ইতিহাস। এদিকে এ কমিশন রিপোর্ট (১৯৭৪)-এর তের বছরের মধ্যেই সরকার তাঁদের শাঃ ৮/১০ এম-৮/৮৬/২৭৬/১৫০ শিক্ষা সংখ্যক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনাব মফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আর একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই কমিশন তাঁদের রিপোর্ট পেশ করেন। এরপর কি ঘটেছে আমাদের জানা নেই। আমার এক সহকর্মী প্রফেসর সেকান্দার আলী ইব্রাহিমী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, ঢাকা থেকে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর এক গ্রন্থে এ জাতীয় বিভিন্ন কমিটি কমিশন রিপোর্টের যে ফিরিস্তি দিয়েছেন তাতে বিখ্যাত স্যাডলার কমিশনের রিপোর্ট ছাড়াই চল্লিশটি রিপোর্ট ও তাদের মুখ্য সুপারিশের উল্লেখ রয়েছে। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঠান্ডা গুদামে’ এ সবগুলির কপি পাওয়া যাবে কিনা সেটা অবশ্য সুধীজনই বলতে পারেন।

উপমহাদেশ বিভাগের পর পাকিস্তান আমলে প্রণীত শরীফ কমিশন এবং পরবর্তীতে বিরচিত কুদরাত-ই-খুদা কমিশন ও মফিজ উদ্দিন কমিশন স্বভাবতই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। লক্ষ্যণীয়, তিনটি রিপোর্টেই রিপোর্ট রচনার সময় ও প্রেক্ষিত তাদের সুপারিশমালার উপরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। শরীফ কমিশন শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলছেন।

“It is axiomatic that the educational system of a country should meet the individual and collective needs and aspirations of the people of the country

“Our educational system must play a fundamental part in the preservation of the ideals which led to the creation of Pakistan and strengthen the concept of it as a unified nation. (Report of the Commission on National Education, January August 1959, Introduction: Paragraphs 26 & 28).

কুদরাত-ই-খুদা কমিশনের মতেও

“১.১. শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির আশা-আকাঙ্খা রূপায়ণের ও ভবিষ্যত সমাজ নির্মাণের হাতিয়ার। কাজেই দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণীর জনগণের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের উপলব্ধি জাগানো, নানাবিধ সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন এবং তাঁদের বাঞ্ছিত নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্ছরই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান নায়িত্ব ও লক্ষ্য। এই লক্ষ্য আমাদের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসমূহের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। শিক্ষার মূলনীতির সঙ্গে এই সাংবিধাটি নীতিমালার যোগসাধন করে বাংলাদেশের শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী নিম্নরূপ দিন

১.২. দেশপ্রেম ও সুনাগরিকত্ব

(ক) জাতীয়তাবাদ

(খ)সমাজতন্ত্র

(গ) গণতন্ত্র

(ঘ) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ

(বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, ১৯৭৪, অধ্যায় ১। শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী।

এ ক্ষেত্রে মফিজ উদ্দিন আহমদ কমিশনের সুপারিশ হলো।

১.১. বাংলাদেশের শিক্ষা হবে সার্বজনীন। সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা। সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তাদের ভিতর গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সচেতনতা।

১.২ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হয়ে সুন্দর ও সুখী জনজীবন ও সমৃদ্ধ সমাজ নৈতিক, ধর্মীয় ও আত্মিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা, মানবিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন করা এবং চরিত্র ও আদর্শ মানুষ তৈরি করা। সেই সাথে সৃজনশীল, উৎপাদনক্ষম, দ্বায়িত্বশীল ও কর্ত্ব্যপরায়ণ জনশক্তি তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে যাতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

(বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৮৬, অধ্যায় ১: শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।।

তিনটি রিপোর্টের সাথেই সম্পৃক্ত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবৃন্দ। অথচ লক্ষ্য করার বিষয়, তাঁদের শব্দ চয়ন, বাচনভঙ্গি, উপস্থাপনা ও গুরুত্বে- emphusis প্রদানের তারতম্য। আমরা তো সঙ্গতভাবেই আশা করতে পারি যে, এঁদের চিন্তা-চেতনায় শুধু অতীত ও বর্তমানই গুরুত্ব পাবে না বরং একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নও তাঁরা দেখবেন। কিন্তু বাস্তবে কি তা ঘটেছে? বরং দেখা যাচ্ছে, তাঁদের রিপোর্টে ফুটে উঠেছে সমকালীন সমাজ রাজনীতির একটা প্রতিচ্ছবি। প্রথম কমিশন চেয়েছেন ভাল পাকিস্তানী গড়তে। দ্বিতীয় কমিশন শ্রেণী সংগ্রামে আস্থাবান। আর তাই তাঁরা চেয়েছেন কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত সমাজকে নিয়ে সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্চার করতে। তৃতীয় কমিশন অবশ্য চেয়েছেন আদর্শ মানুষ তৈরি করতে, যাদের হধ্যে থাকবে নৈতিক, ধর্মীয়ও মূল্যবোধ। কবি শুরুর সেই ‘মৃদ্ধ জননীর’ ‘সাত কোটি সন্তানকে তাঁরা শুধু ‘বাঙ্গালী’ করে স্বস্তি বোধ করেননি বরং তাদেরকে ‘মানুষ’ করার কঠিন সাধনায় ব্রতী হয়েছেন। কোন সুপারিশমালা

এই প্রসঙ্গে আমার বিশেষ করে মনে পড়ছে Oxford Centre for Islamic Studies- ১৯৯ সাcV প্রদত্ত সেন্টারের পেট্রন H.R.H. The Prince of Walese এর সেই বহুল আলোচিত বক্তৃতাটি যেখানে তিনি পাশ্চাত্যের বর্তমান অন্ধ ইহজাগতিকতা, স্বার্থসর্বঙ্গ বস্তুবাদ, ব্যক্তিগত ভোগ বিলাসের পেছনে বিরামহীন ছোটাছুটি এবং প্রভৃতিতে পদানত করে ফেরআউনী স্বেচ্ছাচারিতার লাগামহীন প্রতিযোগিতায় শ্রান্ত, ক্লান্ত ও খন্ডিত জীবনের অধিকারী হতাশ মানবগোষ্ঠীর অরুণ কাহিনী ভূলে পরেছেন। একটু দীর্ঘ হলেও এখানে তাঁর বক্তৃতা থেকে আমি কিছুটা উদ্ধৃতি পেশ করছি।

More than this, lam can teach day wayfunding and ring in th world which Christianity milf is the-poorer for having lot. At the hean of Islam is its preservation of an integral view of the Universe Islam-like Babbism and Hinduism-refuses to separate man and nature, redigs and science, mind and matter, and has preserved a metagitysical and unified view of ourselves and the world around s. At the core of Christianity there still fesan megral view of the sanctity of the world, and char swane of the trusteesup and respondility given to as for our arroundings.

But the West gradually, love this megrand of the world with Copernicon and Descartes and the coming of the scientific A comprehensive philosophy of nanire is no longer part of one everyday beliefs. I cannot help feeling that if we could now only rodoscover that earlier, all bring appach to the world around us, t and andestand its deeper meaning, we could beyin is get away from the increasing tendency in the West in five on the surface of endings, where we staly world in order no manipulate and dominiteing harmony and beauty into disequilibrium and chaos

আমি এবারে আপনাদের মনোযোগ একটি সংবিধানিক সমস্যার প্রতি আকর্ষণ করছি। বন্ধুবর অধ্যাপক শামসুল হক তাঁর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিসমিল্লাহকে তিনি আরবীতে বিসমিল্লাহ পড়বেন, না কি বাংলা তরজমাতে যে নিয়ে আমি মাথা ঘামাচ্ছি না। আমি বলতে চাইছি, তিনি বিসমিল্লাহতে অর্থাৎ গুরুতেই যে সমস্যার সম্মুখীন হবেন, তার সমাধান তিনি কিভাবে করবেন? কুতরাত-এ-খুদা কমিশন তার যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিলো তার তো আমুল পরিবর্তন ঘটেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান যে সংবিধানের “প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখতে এবং “ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান” মহামান্য রাষ্ট্রপতি হতে শুরু করে দেশের কনিষ্ঠতম নাগরিকের “পবিত্র কর্তব্য” (সংবিধান প্রস্তাবনা। এবং “জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরুপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোষ আইন এবং অন্য কোন আইন যাদি এই সাংবিধানের সহিত আসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।” (সংবিধান। প্রজাতন্ত্র। ধারা ৭ (২) অনুযায়ী ইসলাম প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম The state religion of the Republic is islam (সংবিধান। প্রজাতন্ত্র। ধারা ২ (ক)। সেক্যুলারিজম এখন প্রজাতন্ত্রের মূলনীতি নয় বরং সংবিধানের বর্তমান বিধান হলো: সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হইবে যাবতীয় কার্যাবলীর ভিত্তি (সংবিধান: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। ধারা ৮ উপধারা (১) ও (১৩)। এমতাবস্থায় মুসলিম শিশুদের প্রাথমিক স্তরে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে অংক, তৃতীয় শ্রেণী থেকে ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে বাদ্য ও যন্ত্র সঙ্গীত এবং চিত্রায়ন পাঠ্য তালিকাভুক্ত হলেও কুরআনের বর্ণমালার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে না অর্থাৎ ইসলামের অনুশাসন মত সাত/দশ বছর থেকে তাদের নামায পড়ার পথে বাধা আরোপ করা হবে। এটা কি, সংবিধান সম্মত, সমীচীন, এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বর্মনুভূতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কালচার সম্মত হবে? প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে একজন মুসলিম শিশু কেন কায়াদা/আমপারা পড়তে পারবে না, তার কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। যারা কচি বয়সে তাদের ছেলেমেয়েদের দ্বিতীয় ভাষা শেখার ব্যাপারে আপত্তি তুলে থাকেন, তাঁদেরই ছেলে-মেয়েরা আবার অভিজাত পল্লীতে অবস্থিত বিদেশী কেতায় পরিচালিত কিন্ডারগার্ডেনে বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা শেখার আগেই ইংরেজিতে বেশ দক্ষতা অর্জন করে বসে। এই মানসিকতার অবসান যদ দ্রুত হয় দেশের জন্য ততই মঙ্গল। মনে করি এখন শরৎ সাহিত্য পড়ার রেওয়াজ বড় একটা নেই। নইলে অতি প্রগতি আমাদের এই বন্ধুদের পরামর্শ দিতাম শরৎ চন্দ্রের নব বিধান টা আর একবার পড়তে।

আমি বরং এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সমাজটাতে আমরা আর কতকাল খন্ডিত ও বিখন্ডিত করে রাখবো? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাধমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতম পর্যায় পর্যন্ত আর কত বিভাজন থাকবে। একদিন বিদেশী শাসকদের উসকানি প্ররোচনায় স্কুল ও মাদরাসার মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছিল তার কি অবসান ঘটান যায় না? মাদরাসাগুলোর কোর্সে বহুল পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে। দাখিল ও আলিম পর্যায় পর্যন্ত ইংরেজি, বাংলা, অংক ও অন্যান্য বিষয়ে অভিন্ন কোর্স অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদরাসা থেকে সরাসরি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রকৌশল কোর্সে যোগদান করা যাচ্ছে। বাকী রয়েছে ফাজিল ও কামিল কোর্সের যথার্থ মূল্যায়ন ও সমতা বিধান। এ কাজটিতে হাত দিতে হবে অত্যন্ত সতর্কতা ও ঐকান্তিকতার সাথে। সমতা বিরান করতে গিয়ে আমরা যেন মাদরাসা শিক্ষার মূল বৈশিষ্ট্যকেই শেষ করে না দিই। ইংরেজ মিশনারীদের বাড়াবাড়িতে একদিন কেন মুসলিম অভিভাকরা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় বর্জন করেছিলেন কিংবা আমাদের পিতৃ পুরুষরা ওয়ারেন হেস্টিংস প্রবর্তিত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যাবস্থা নাকচ করে দিয়ে তাঁদের নিজস্ব কওমী বা খারেজী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন তার নিগুড় কারণ অনুসন্ধান করে অতি সর্তকতার সাথে এই স্পর্শকাতর বিষয়টির মীমাংসা করতে হবে। প্রায়বিলুপ্ত টোল শিক্ষার সাথে একই বন্ধনীতে দেড় পাতায় মাদরাসা শিক্ষা সর্ম্পকিত সকল বিষয়কে বন্দী করে কলমের এক খোঁচায় মাদরাসা ব্যবস্থাকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এরপ উদ্যোগ গ্রহণ চরম অদূরদর্শিতার পরিচায়ক হয়ে বলে আমি মনে করি।

আমি যে প্রস্তাবটি এখানে করতে চাই তা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে সকল শিশুদের জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী প্রবর্তন। একটা স্বাধীন, ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নির্ধারণের পূর্ণ এখতিয়ার একমাত্র আমাদের। কোন দেশ-প্রাচ্য বা প্রাচীত্য-এর অন্ধ অনুসরণ যেমন আমরা করব না তেমনি অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কিন্তু গ্রহণ করবে না এমন অহেতুক জিদও আমাদের থাকবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের অধিকাংশ নাগরিকদের অভিপ্রায় অনুযায়ী আমাদেরই ধর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় চরিত্রের পরিপূরক হবে। জাতীয় চিন্তা থেকে তা উৎসারিত হবে এবং জাতীয় চেতনাকে আবার তা সমৃদ্ধ ও সতেজ করবে Adam’s রিপোর্ট থেকে আমাদের দেশে লেখাপড়ার ঐতিহ্য ছিল কি সুমহান এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ছিল কত গভীর ও পবিত্র। আরও জানি যে এদেশের শতকরা ৮৭ জন নাগরিক যে মহান ধর্মে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাস করে-তাঁদের রসুল সা: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জ্ঞানার্জন ফরজ করে দিয়েছেন। তার চেয়েও গর্বের কথা হলো রসুল (সা:) তাঁর প্রভুর কাছ থেকে প্রথম যে প্রত্যাদেশ লাভ করেছিলেন তাতে ঈমান, ইসলাম বা সালাত ও সাওমের কথা বলা হয়নি। বরং নির্দেশ দেয়া হয়েছে। “পড়, তোমার প্রতিপালক নামে ‍যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন।সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে ‘আলাক’ হইতে। পড়, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়াছেন। আল-কুরআন ৯৬: ১-৫)। আমার প্রায়ই মনে হয়, যে মহান প্রভূ প্রায় সপ্তম শতাব্দীতে যখন বিজ্ঞান সম্পর্কে এমনকি পন্ডিতদের জ্ঞান ছিল খুবই সীমাবদ্ধ বিশেষ করে ভ্রুনবিদ্যা (Embryology) সম্পর্কে বলতে গেলে তাঁরা কিছুই জানতেন না, তখন মাতৃ জরায়ুতে এঁটে থাকা নিষিক্ত ডিব্মোকোষ ‘আলাক’ থেকে মানুষের জন্মের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি কি তাঁর রাসূল (সা:)-এর কাছে প্রেরিত ঐ পঞ্চ আয়াতে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানের একটা ইঙ্গিত দেননি? আয়াত পাঁচটি আমরা আবার যদি মনোযোগের সাথে পাঠ করি তাহলে কি আমাদের মনে হবে না যে মহাজ্ঞানী মহান রাব্বুল আলামীন চাইছেন যে আমরা নরনারী নির্বিশেছে সকবলে জানি।

(ক) তিনি আমাদের মহিমান্বিত প্রভু ও প্রতিপালক,

(খ) জানি তাঁর মহান সৃষ্টিতে এবং সে সৃষ্টিতে প্রতিটি সৃষ্ট বস্তু (মানুষসহ এর অবস্থিতি, পরিবেশ

(গ) জানি পড়তে, লিখতে এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে; এবং

(ঘ) জানি জানার মাধ্যমে অজানাকে।

সুন্দর ও সুসামঞ্জস্য মিলন ঘটবে miind ও matter, দ্বীন, দুনিয়া, মানুষ ও তার পরিবেশ এবং ধর্ম ও বিজ্ঞানের। আমি মনে করি অনুধালুপ্ত মাওলানা আবু নসর ওয়াহিদ প্রবর্তিত নিউস্কিম মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত সিলেবাস আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তারই আদলে আমরা একটা জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। ধর্ম শিক্ষা ও ধর্মবহির্ভূত (?) শিক্ষাকে পৃথকরূপে চিহ্নিত করতে আমি প্রস্তুত নই। তবু পরিসংখ্যানের প্রয়োজনে স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি মাত্র যে কুদরাত-এ-খুদা কমিশন কর্তৃক পরিচালিত জরিপে ১৯৫১ জন উত্তরদাতা (প্রায় দুই তৃতীয়াংশ) মত প্রকাশ করেছিলেন যে ধর্মশিক্ষা সাধরণ শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। এই পর্যায়ে পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচীর উপরে আম সমাধিক গুরুত্ব এজন্য আরোপ করছি যে এটা আমাদের শিক্ষ ব্যবস্থার প্রথম সোপান এবং এই পর্যায় থেকে অধিকাংশ নাগরিক তাদের লেখাপড়া সমাপন করবেন। কাজেই এখানেই তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ধর্মীয় চেতনা ও দেশপ্রেম, পরিচিত করতে হবে দেশের মাটি ও মানুষের সাথে, অনুপ্রাণিত করতে হসে সত্যাশ্রয়ী, পরিশ্রমী, অধ্যাবসায়ী ও স্বনির্ভর হতে, গড়ে তুলতে হবে তাদের ব্যক্তিত্ব, জাগ্রত করতে হবে তাদের ঐক্যবোধ, সমাজপ্রীতি ও পারস্পরিক মমত্ব তীক্ষ্ম করতে হবে তাদের চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত।

জাতীয় শিক্ষানীতি এমন একটি ব্যাপক বিষয় যে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণের স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমিও এই অসম্ভবকে সম্ভব করায় নিষ্ফল প্রচেষ্টায় কালক্ষেণ করতে চাই না। বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু আলে আপাত করেই আমি আমার বক্তব্য শেষ করবো।

পুর্বেই বলেছি যে, আমি বর্তমানে প্রচলিত ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সমর্থন করি এবং ঐ সাথে কুদরত-এ-খুদা কমিশনের সাথে একমত পোষণ করি। শিক্ষার মেয়াদ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রাদারিত করতে হবে। কমিশনের সাথে আমি আরও একমত করি যে, মাধ্যামিক শিক্ষা হবে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। কলেজীয় শিক্ষার মেয়াদ হবে পাস ও অনার্স উন্নয় কোর্সের জন্য অন্তত পক্ষে তিন বছর। বর্তমানে প্রচলিত পাস ও অনার্স কোর্সের পার্থক্য দূর করে মেধা ভিত্তিতে অনার্স প্রদান (প্রকৌশল, ভূমি ও ঠিকিৎসা বিজ্ঞানে এই ব্যবস্থা বর্তমানে প্রচলিত) করার বিষয়টি গুরুত্বের সাধে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। আর সকল ক্ষেত্রেই মাস্টার্স কোর্সের মেয়াদ হবে দু’বছর।

প্রতি স্তরে মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার বিষয়াটি আমি সমর্থন করি। তবে ঐ সাথে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব অবশ্যই দিতে হবে। বস্তুত: ভাষা শিক্ষা সম্পর্কে আমাদের একটা জাতীয় নীতি থাকা বাঞ্ছনীয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক ভাষা আমাদের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কারণে তা ইংরেজি- আয়ত্ব করতে হবে। ভাষাশিক্ষা পদ্ধতিরও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

কমিশন বিজ্ঞান শিক্ষার উপর যে গুরুত্ব আরোপ করেছেন আমি তা সর্বতোভাবে সমর্থন করি। কিন্তু ঐ সাথে আমি এ কথাও না বলে পারছি না যে, আমাদের যোগ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজীয় এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়েও বিজ্ঞান শিক্ষার পরিবেশ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বিজ্ঞানাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থগার, দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষক, কেমিক্যালস ইত্যাদির বড্ড অভাব। ঐ সাথে রয়েছে সিলেবাসের অরসাম্যহীনতা। আজকাল গণিত, রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিজ্ঞানের বিষয় নির্বাচিত না হয়ে অধিকাংশ কলেজে মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ইত্যাদি তার স্থান দখল করেছে। HSC বিজ্ঞানে গণিত অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত। প্রতিটি পর্যায়ে বর্তমানে প্রচলিত সিলেবাষগুলির আশু মূলায়ণ ও আবশ্যকীয় আধুনিকায়ন অতন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সিলেবাস জীবন ও কর্মমুখী এবং দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সমন্বিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

কমিশন দেশের আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রভর্তির চাপ কমাতে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণার কাজকে উৎসাহিত করতে দেশের তৎকালীন চারটি বিভাগে চারটি অনুমোদন দানকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সুপারিশ করেছিলেন। তাদের আশা ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অধিভূক্ত কলেজ সমূহে ‘ছাত্র ভর্তি, শিক্ষক নিযুক্তি, পরীক্ষা পরিচালনা এবং তাদের আর্থিক ও প্রশাসনকি ব্যাপারে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে। চার বিভাগে চারটি অনুমোদন দানকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি তবে গাজীপুরে একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে দেশের অন্যান্য স্থানে বহিঃ ক্যাম্পাস স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যেই তাদের কাজ শুরু করেছে এবং অধিভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রভর্তি, কলেজ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে বেশ কিছু তৎপরতার স্বাক্ষর রেখেছে। তবে অতি সম্প্রতি স্থানীয় চাহিদার চাপে এমন কিছু কলেজকে সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিভুক্তি দান করা হয়েছে যে গুলোতে মান অনুযায়ী পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষক নেই বা আদের গ্রন্থাগার বিজ্ঞানাগারগুলোর মানসম্মত নয়। আরো শোনা যায় যে, শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য নির্মিত ভবনটি হাইজ্যাক হতে চলেছে। অপর পক্ষে কেলেজ পরিচালনার বিষয়ে মন্ত্রনালয় তাদের কর্তৃত্ব ও মুঠো শিথিল করতে আদৌ প্রস্তুত নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের উপরে ন্যাস্ত দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারের পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিতার সংজ্ঞায়িত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী বা রাষ্ট্রীয়করণ আমাদের দেশে একটা craze এ পরিণত হয়েছে।

স্বাধীনতাপূর্ব কালে আমাদের দেশে সরকারী কলেজের সংখ্যা ছিল ৮ (আট), ১৯৭৪ এ ছিল ৩৪ এবং এখন এই সংখ্যা দু’শ ছাড়িয়ে গেছে। মজার কথা হলো এই সব সরকারী কলেজের কোন কোনটিতে ইংরেজি শিক্ষকের একটি পদও নেই। আবার কোনটিতে কোন কোন বিষয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা হলো ৪ (চার) আর তারা কোর্স দিচ্ছেন পাস, অনার্স, স্নাতকোত্তর (প্রথম) ও স্নাতকোত্তর (শেষ) পর্বে। তা হলে লেখাপড়া কেমন হচ্ছে সে সম্পর্কে ধারণা আপনারা করতে পারেন। এগুলির কোন কোনটিতে এমনকি উল্লেখ করার মত একটি গ্রন্থাগারও নেই। অথচ সরকারীকরণের মাধ্যমে শিক্ষকবৃন্দ অফিসার তথা আমলা হয়ে গেছেন এবং স্থানীয় গভর্নিং বডির কাছে জবাবদিহিতার আপদ থেকে তারা নিষ্কৃতি পেয়েছেন। আজকাল প্রাথমিক পর্যায় থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সমাজও তাদের দায়িত্ব থেকে রেহাই পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়তে চাইছে। কিন্তু তা কি তারা পারছেন? ছাত্র পরিষদ, তাদের দাবী দাওয়া, প্রশাসনে তাদের হস্তক্ষেপ, ভর্তি ও পাস ফেইলের ব্যাপারে তাদের আব্দার এবং দাবীদাওয়া পূরণে সামান্য গোলমাল হলে এডওয়ার্ড সরকারী কলেজ পাবনার ভাগ্যহত অধ্যক্ষের সপরিবারে নিগৃহীত হবার ঘটনা তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ওরই মধ্যে ঢাকাস্থ সিটি, কমার্স বা নটরডাম কলেজের মত বেসরকারী কলেজে আইন ও শৃঙ্খলা কিভাবে রক্ষিত হচ্ছে তা কি ভেবে দেখার ব্যাপার নয়? জগন্নাথ কলেজে (না কি বিশ্ববিদ্যালয়) কোন বিভাগে কত ছেলে মেয়ে ভর্তি হয়েছে তার হিসেবই কি চট করে দেওয়া যাবে? ইত্যাকার বিষয়গুলো শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির দৃষ্টি নিশ্চয়ই আকর্ষণ করবে। ছাত্রছাত্রীদের অধিকারের একটা সীমারেখা বেধে দেওয়ার সময় এসেছে। সমাজে অস্থিরতা, রাজনীতিতে হট্টগোল, অর্থনীতিতে বন্ধ্যাত্বের দোহাই দিয়ে আর কতদিন আমরা ক্যাম্পাস দৌরাত্ম্য সহ্য করব? এখনও কি ফিরে দাঁড়ানোর সময় হয়নি?

নিজে সারা জীবন শিক্ষকতা করে আজ জীবন সায়াহ্নে বড় লজ্জা ও ক্ষোভের সাথে স্বীকার করছি যে, আমাদের অনেকের শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করা ঠিক হয়নি। কিন্তু যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন সমাজ তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দিয়েছে কি? অতীতে আমরা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে সম্মান ও মর্যাদা দান করতাম এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার সহকর্মী, ছাত্র বা বৃহত্তর সমাজ থেকে তা কি পান? যদি না পান তা হলে তার কারণ নির্ণয় করতে হবে এবং এ পেশাতে তাদেরই প্রবেশাধিকার থাকা উচিত যারা স্বীয় মেধা, যোগ্যতা, গবেষণাকর্ম, পাঠদানে কুশলতা ও আদর্শ নিষ্ঠায় সকলের শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করতে পারবেন। ঐ সাথে সমাজকেও সেই আদর্শ শিক্ষকের যথার্থ কদর করতে ও যোগ্য প্রতিদান দিতে হবে।

(সেন্টার-ফর পলিসি স্টাডিজ কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে পঠিত এবং ‘জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নে প্রস্তাব ও সুপারিশমালা’ শীর্ষক গ্রন্থ হতে গৃহীত।

Facebook

ড্যাশবোর্ড

পাঁচ দফা কর্মসূচি

তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।

ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।

যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।

অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন

আপনার সহযোগিতা জমা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

একখনি করুন