আমাদের দা’ওয়াহ

তানযীল আহমাদ

আমাদের দা’ওয়াহ হলো আম্বিয়ায়ে কেরামের দা’ওয়াহ। তাদের দেখানো পথই আমাদের পথ। তাদের অনুসৃত নীতিই আমাদের নীতি। আমরা সেই নীতি ও আদর্শের আহ্বায়ক এবং ধারক-বাহক মাত্র। আমরা নতুন করে কোনো নতুন আদর্শ ও মতবাদের দিকে কাউকে আহবান করি না। আমরা নিষ্ঠার সাথে বিশ্বাস করি, তাঁদের পথেই প্রকৃত সফলতা। তাঁদের দা’ওয়াহ কালোত্তীর্ণ। সর্বযুগে সমসাময়িক। অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং মিশ্রিত বিশ্বাসের দুর্গ গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে অবিমিশ্র তাওহীদের যে নবনির্মিত ঈমানী সৌধ গড়ে তোলা হয়েছে, আমরা সেই সৌধের রক্ষক, পাহারাদার। আমাদের এই সৌধে শিরক-কুফর-নিফাকের কোনো কালো ছায়া থাকতে পারে না, জাহেলিয়াতের কোনো দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে না। আমরা শিরক-কুফরে নিমজ্জিত আর জাহেলিয়াতের ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা মানবসমাজকে মুক্তির মহাপয়গাম নিয়ে তাওহীদের এই সৌধের দিকে আহ্বান করে থাকি। কারণ আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আম্বিয়ায়ে কেরাম যে ঈমানী সৌধ বিনির্মাণ করেছেন তা কখনো ভেঙ্গে পড়ার নয়। যারাই সেটাকে ভাঙার চেষ্টা করেছে তারাই ধ্বংস হয়েছে। আম্বিয়ায়ে কেরাম যে আলোকবর্তিকা নিয়ে এই পৃথিবীতে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন, শয়তানের দুষ্ট চক্র সেই মশালকে নেভানোর জন্য হরহামেশাই অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই মশালকে প্রজ্জ্বলিত রাখা। তা যেন কোনক্রমেই নিভে না যায়। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাও তাই। আল্লাহ বলেন,

یُرِیْدُوْنَ لِیُطْفِئُوْا نُوْرَ اللّٰهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ اللّٰهُ مُتِمُّ نُوْرِهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ

“এরা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। অথচ আল্লাহর ফায়সালা হলো তিনি তার নূরকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন। কাফেররা তা যতই অপছন্দ করুক না কেন।” [আস-সফ, ৬১: ৮]

পৃথিবীর উন্নত প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিজ্ঞানীরা তাদের সমস্ত পরিশ্রম একত্রিত করে মারণাস্ত্র তৈরি করুক না কেন, সেগুলো যেমন আকাশের চন্দ্র সূর্যকে ধ্বংস করতে পারে না, এমনকি সামান্য ক্ষতিও করতে পারেনা, ঠিক তেমনি পাশ্চাত্য সভ্যতা যতই চাকচিক্যময় ও চোখ ধাঁধানো হোক না কেন, ইসলামের কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য তার নাই । ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে ইসলামের সোনালী কাব্য রচিত হয়েছে । শত সহস্র আঘাত-আক্রমণের মুখে ইসলাম তার কালজয়ী আদর্শ নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের উপরে যত আঘাত এসেছে অন্য কোনো ধর্ম ও মতবাদ এত আঘাত কল্পনাও করতে পারে না । মুসলিমরা এমন এক জাতি যা কখনো বিলীন হওয়ার নয়, ইসলাম এমন এক ধর্ম যা কখনো বিলুপ্ত হওয়ার নয় । আমরা এমন এক জাতি যারা অন্য সব জাতির সাক্ষী হবো । আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنٰكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَ یَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَیْكُمْ شَهِیْدًا

“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি ‘মধ্যপন্থী’ উম্মাতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রসূল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী।” [আল বাকারা, ২ : ১৪৩]

সুতরাং আমরা স্থায়ী জাতি। আমাদের দা’ওয়াহ শাশ্বত, চিরস্থায়ী। একটি শান্তিময়, পরিশীলিত ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব উপহার দেয়ার জন্য আমাদের দা’ওয়াহ অবিরতভাবে চলমান।

দাওয়ার বিষয়বস্তু

বিষয়বস্তু এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা নির্ধারিত, নির্দিষ্ট, সঠিক ও নির্ভুল না হলে সে দা’ওয়াহ ফলদায়ক হবে না, শ্রম সার্থক হবে না, উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। ফলে, নিয়াতের বিশুদ্ধতা, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা, উম্মাহর সংশোধন ও জাগরণের দৃপ্ত বাসনা এবং বিরতিহীন কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও সে দা’ওয়াহ লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। উম্মাহর কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ সাধিত হবে। আজ পুরো উম্মাহর সর্বাত্মক জাগরণের যে কথা আমরা বলছি, তার বাস্তবায়নের জন্য দা’ওয়ার বিষয়বস্তু ঠিক করা অত্যন্ত জরুরী।

. আমাদের দা’ওয়াহ এক আল্লাহর তাওহীদের দিকে। যে তাওহীদের জন্য আম্বিয়ায়ে কেরামের আগমন। যে তাওহীদের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন। শত কন্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে ঈমানের রাজপথকে মসৃণ করেছেন, পৃথিবীতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছেন, মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর গোলামে পরিণত করেছেন। আমাদের দা’ওয়াহ জাহেলিয়াতের শেকল ভেঙ্গে ইসলামের সুমহান আদর্শে আদর্শবান হওয়ার, দুনিয়ার সংকীর্ণ জীবনকে তুচ্ছ করে আখেরাতের অনাবিল শান্তির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের। আমাদের দা’ওয়াহ আল্লাহদ্রোহী শক্তি তথা তাগুতের বিরুদ্ধে। আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং তাগুত বর্জনের গুরুদায়িত্ব নিয়ে নবী-রাসূলগণ এই ধরণীতে আগমন করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَقَدْ بَعَثْنَا فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوْتَ١ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ هَدَى اللّٰهُ وَ مِنْهُمْ مَّنْ حَقَّتْ عَلَیْهِ الضَّلٰلَةُ١ؕ فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ

প্রত্যেক জাতির মধ্যে আমি একজন রসূল পাঠিয়েছি এবং তার মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যে, “আল্লাহর বন্দেগী করো এবং তাগূতের বন্দেগী পরিহার করো।” এরপর তাদের মধ্য থেকে কাউকে আল্লাহ সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন এবং কারোর ওপর পথভ্রষ্টতা চেপে বসেছে। তারপর পৃথিবীর বুকে একটু ঘোরাফেরা করে দেখে নাও যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে তাদের পরিণাম কি হয়েছে। [আন নাহল, ১৬ : ৩৬]

আল্লাহ আরো বলেন,

وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِیْۤ اِلَیْهِ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدُوْنِ

আমি তোমার পূর্বে যে রসূলই পাঠিয়েছি তাঁর প্রতি এ অহী করেছি যে, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই কাজেই তোমরা আমারই বন্দেগী করো । [আল আম্বিয়া, ২১:২৫]

আজ তাওহীদের বিপরীতে শির্কের যে সয়লাব, কুফর ও তাগুতের যে শোরগোল, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শির্কের যে মহামারী, তার বিরুদ্ধে আল্লাহর তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়া আমাদের প্রধান ও প্রথম কর্মসূচি। ইবাদতের নামে শির্কের যে মহোৎসব, রাজনীতির নামে শির্কের ছড়াছড়ি, কুরআন এবং হাদিসকে নির্লজ্জভাবে অপমানের যে হিড়িক, তার বিরুদ্ধে আমাদের দা’ওয়াহ।

. আমাদের দা’ওয়াহ বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের নিঃশর্ত অনুসরণের প্রতি। আমরা বিশ্বাস করি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রিসালাত উম্মাহকে উপহার দিয়েছেন তা চূড়ান্ত। তা সংশোধন করার, সংযোজন বিয়োজন করার কোনো এখতিয়ার কারো নাই। রিসালাতের এই শর্ত পূরণ করা সকল মুসলিমের উপর ওয়াজিব। আজকে মাযহাব ও দলের নামে রাসুলের সুন্নাহকে যেভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে আমাদের দা’ওয়াহ তার বিরুদ্ধে। সুন্নাহকে মেনে নেওয়ার, জীবনের সার্বিক ক্ষেত্রে সুন্নাহর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করার গুরু দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। প্রাচ্যবিদরা (Orientalists) রাসূলের হাদিসের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র, অপকৌশল অবলম্বন করে একশ্রেণীর মানুষের মধ্যে হাদীসের বিষয়ে যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব দেওয়া দা’ওয়ার আবশ্যকীয় অংশ। ঠিক তেমনি নিজের দল ও মাজহাবের দোহাই দিয়ে রাসূলের বিশুদ্ধ হাদিসকে পাশ কাটিয়ে অপব্যাখ্যা করে নিজস্ব মতামত প্রচলন ও প্রতিষ্ঠা করার যে অশুভ প্রবণতা তার বিরুদ্ধে আমাদের জ্ঞানগত দা’ওয়াহ দিতে হবে।

. আমাদের দা’ওয়াহ হলো সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন যে ইসলাম পরিপালন করেছেন তার পুনঃপ্রবর্তন। যুগের বিষাক্ত বাতাসে ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কলুষিত হয়ে আজ যে পর্যায়ে এসেছে, বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশে-তার পরিবর্তন  ইসলাম নয় এমন অনেক বিষয়কে অনেকেই ইসলাম মনে করে থাকে। এ সকল কুসংস্কার বিদূরিত করে সাহাবায়ে কেরাম যে ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন এবং আমল করেছেন তা ফিরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের দাওয়ার অন্যতম লক্ষ্য। মডারেট ইসলাম বা ক্লাসিক্যাল ইসলাম নাম দিয়ে পশ্চিমা সভ্যতার রঙ্গে ইসলামকে রঞ্জিত করার যে পরাজিত মানসিকতা তা রুখে দেওয়াও আমাদের দা’ওয়ার অংশ।

. আমরা সকল প্রকার জুলুম নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শে একটি ন্যায়পরায়ণ, আদর্শিক ও তাওহীদভিত্তিক খেলাফত পুনরুদ্ধারের উদাত্ত আহবান জানাই। আমরা কখনোই ক্ষমতার জন্য দা’ওয়াহ দেই না, ক্ষমতা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যারা ইসলামের জন্য কাজ করে, তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় সমর্থন করে, সহযোগিতা করে, শিরক-কুফর-তাগুত বর্জন ও মূলোৎপাটনে প্রচেষ্টা করে তাদেরকে সমর্থন করি, তাদের জন্য দোয়া করি । আমাদের এই দা’ওয়াহ নির্ভেজাল, নির্মোহ । দুনিয়ার সকল স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে আম্বিয়ায়ে কেরামের আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রচেষ্টা করি। আমরা বিশ্বাস করি, খেলাফত আলা মিনহাজিন নবুওওয়া পারে বিশ্বের বর্তমান দ্বান্দ্বিক অবস্থার অবসান ঘটাতে, শিরকের মূলোৎপাটন করতে, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে। পশ্চিমা বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপরে যে অর্থনৈতিক শোষণ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লাগিয়ে রেখেছে কয়েক দশক ধরে, আমরা তার অবসানকল্পে আমাদের দা’ওয়াহ নিযুক্ত করতে চাই । বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতার মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে পশ্চিমা বিশ্ব যে বস্তাপঁচা গণতন্ত্র বাজারজাত করেছে আমরা তার বিলুপ্তি চাই। বস্তুত, গণতন্ত্রের নাম দিয়ে দেশে দেশে অস্থিরতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও গৃহযুদ্ধ চলমান। পশ্চিমারা এর মাধ্যমে ফায়দা লুটতে চায়। আমাদের দা’ওয়াহ মানুষকে এসব ধোঁকাবাজির বিরুদ্ধে সজাগ ও সচেতন করা।

. আমাদের দা’ওয়াহ হলো ইসলামের সুমহান ও কালোত্তীর্ণ সংস্কৃতিকে সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী সংস্কৃতির সামাজিকীকরণ না হওয়ার ফলে যে অপসংস্কৃতি মুসলিম যুবকরা চর্চা করছে তাতে একদিকে যেমন তাদের দ্বীন বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি সামাজিক মূল্যবোধ বিলুপ্ত হচ্ছে, সেই সাথে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে পশ্চিমারা তাদের নোংরা আদর্শকে সুকৌশলে মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা জানি ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আবার সংস্কৃতি মানুষের নিত্য সঙ্গী। কোনো মানুষই সংস্কৃতিহীন নয়। কাজেই ইসলামের যে সংস্কৃতি, যে রীতিনীতি, আদব-কয়দা, শিষ্টাচার ও অভ্যাস তা জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে সকলেই পরিপালন করুক তা আমাদের একান্তই কাম্য। আমরা সেই লক্ষ্যে ছাত্র ও যুবকদের মাঝে কাজ করতে চাই। সংস্কৃতির সুস্থ ধারাকে বিকশিত করতে চাই। অপসংস্কৃতির রোধে এর বিকল্প হতে পারে না।

আমাদের দাওয়ার মূলনীতি

বলা হয়ে থাকে, Muslims are the wrost seller of a best product and non muslims are the best seller of a wrost product -মুসলিমরা হলো সবচেয়ে ভালো পণ্যের নিকৃষ্ট বিক্রেতা আর বিধর্মীরা হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট পণ্যের উৎকৃষ্ট বিক্রেতা। এজন্য দাঈদের ইসলামে প্রচারের উৎকৃষ্ট পদ্ধতি জানা থাকা দরকার। দা’ওয়ার মূলনীতিগুলো আত্মস্থ ও উপলব্ধি করা দরকার। কোন্ পদ্ধতিতে দা’ওয়াহ সবচেয়ে বেশী কার্যকর ও ফলপ্রসু হবে তা নির্ধারণ করা চাই। আমরা সহায়ক হিসেবে বেশ কিছু মূলনীতি বর্ণনা করছি।

. ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞানে জ্ঞানী হওয়া। জ্ঞানই আমাদের দা’ওয়ার মূল অস্ত্র। কাজেই যারা নিজেদেরকে দা’ওয়ার কাজে নিযুক্ত করবেন তাদের অবশ্যই নিদেনপক্ষে ইসলামের প্রাথমিক ও মৌলিক জ্ঞান থাকা চাই।

. ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলা বা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এ সম্পর্কে অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে।

. দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার সাথে দা’ওয়াহ প্রদান করা। দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাবেই আমাদের অনেকের কষ্টসাধ্য দাওয়াহ ফলপ্রসু হয় না, অবিরাম কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যায় না। এজন্য দাঈদের অনেক বেশি বিচক্ষণ হতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায় জানা থাকতে হবে। ইসলামের আবশ্যকীয় বিজয় সম্পর্কে কোনো সন্দিহান থাকা যাবে না। সময়ের পরিবর্তনে, যুগের আবর্তনে মানুষের মন মেজাজ ও রুচির যে পরিবর্তন সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। আরবিতে প্রচলিত একটি কথা হলো   من جهل بأهل زمانه فهو جاهل -যে ব্যক্তি তার সমযুগীয় লোকদের সম্পর্কে অনবগত সে আসলেই মূর্খ। কাজেই বিচক্ষণতার দাবি হলো, আমরা যেন হাল যামানার বিভিন্ন মতবাদ-মতাদর্শ এবং নিত্য নতুন সমস্যা ও এসবের পেছনের মূল কারণ ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি।

. পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সে মাফিক দা’ওয়াহ দেওয়া। আমরা জানি পরিকল্পনা কাজের অর্ধেক। একটি সুন্দর ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা কার্য বাস্তবায়নে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। পক্ষান্তরে সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে কিংবা ভুল পরিকল্পনা থাকলে উদ্দেশ্যিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না। পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক মুসলিম দেশগুলোর উপরে যে সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা ও পদক্ষেপ কেমন হওয়া চাই সে সম্পর্কে পূর্ব পরিকল্পনা থাকতে হবে। তা না হলে আমাদের দা’ওয়াহ সঠিক ট্রাকে কখনোই থাকবে না।

. সমমনা ইসলামী সংগঠনগুলোর সাথে পরামর্শ ভিত্তিক দা’ওয়াহ প্রদান; যা আজকে অনেকটাই উপেক্ষিত। আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মঅহমিকা ও সন্দেহ থাকায় আমরা উম্মাহর এই ক্লান্তিলগ্নেও পরামর্শ ভিত্তিক দা’ওয়াহ প্রদানে প্রতিনিয়ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। বাতিল শক্তি এবং বিদআতিরা যখন একযোগে ইসলামের মূল ধারায় আঘাত করতে বদ্ধপরিকর সে মুহূর্তে আমাদের পরামর্শ ভিত্তিক পরিকল্পনা মাফিক দা’ওয়াহ প্রধান আবশ্যক। পরামর্শ ভিত্তিক দাওয়াহ প্রদান এই যুগের অন্যতম অব্যর্থ মাধ্যম।

. আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের পূর্ণ অনুসরণ। তাদের মানহাজই সবচেয়ে নিরাপদ, আমাদের বিশ^াসের জায়গা। তারাই এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তান, পবিত্র হৃদয়ের অধিকারি, পূণ্যবান এবং অতুলনীয় জ্ঞান ও বিচক্ষণতার মূর্ত প্রতীক। তবে হ্যাঁ, যুগের পরিবর্তনে আমাদের দাওয়াহ উপস্থাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যেহেতু বর্তমান সময়ে দাওয়ার উপকরণ অনেক বেশি সেহেতু আমাদের সালাফদের মানহাজের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে নতুন নতুন কলাকৌশল আবিষ্কার ও প্রয়োগ করা যেতে পারে। মোটকথা, দা’ওয়াহ উপস্থাপনে যেন কোনো জড়তা, একগুয়েমি ও বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তা যেন আকাঙ্খিত, আকর্ষণীয় ও হৃদয়গ্রাহী হয়-তবেই তা অধিক ফলপ্রসু হবে ।

. দা’ওয়ার নামে সকল প্রকার দলাদলি, হিংসা বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকা। দা’ওয়াহ যদি আমাদের পরস্পরের মাঝে দলপরস্তি, গীবত-শেকায়েত, বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতার সৃষ্টি করে তাহলে তা কখনো ইসলামী দা’ওয়াহ হতে পারে না। আজ সংগঠনের জন্য আমরা আমাদের দা’ওয়াকে ব্যবহার করছি, নিজস্ব চিন্তা বাস্তবায়নের জন্য কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করছি। ফলে আমাদের দা’ওয়াহ কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের মুখ দিচ্ছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভক্ত ও পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন মানুষদেরকে ঈমানের সুতায় এমনভাবে গেঁথেছিলেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে বেনজির । আল্লাহ বলেন,

وَ اَلَّفَ بَیْنَ قُلُوْبِهِمْ١ؕ لَوْ اَنْفَقْتَ مَا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا مَّاۤ اَلَّفْتَ بَیْنَ قُلُوْبِهِمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ اَلَّفَ بَیْنَهُمْ١ؕ اِنَّهٗ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ

এবং মুমিনদের অন্তর পরস্পরের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। তুমি সারা দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ ব্যয় করলেও এদের অন্তর জোড়া দিতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের অন্তর জুড়ে দিয়েছেন। অবশ্যি তিনি বড়ই পরাক্রমশালী ও জ্ঞানী। [আল আনফাল, ৮ : ৬৩]

মহান আল্লাহ আরো বলেন,

مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ١ؕ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیْنَهُمْ تَرٰىهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا یَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانًا١٘ سِیْمَاهُمْ فِیْ وُجُوْهِهِمْ مِّنْ اَثَرِ السُّجُوْدِ

মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে আপোষহীন এবং নিজেরা পরস্পর দয়া পরবশ। তোমরা যখনই দেখবে তখন তাদেরকে রুকূ ও সিজদা এবং আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি কামনায় তৎপর পাবে। [আলফাতহ, ৪৮ : ২৯]

এই আয়াত থেকে এটাও বুঝা যায় যে, দাঈগণ যদি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে মনোযোগী হন, রুকু সিজদা বেশি করে করেন তাহলেই তাদের পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করবে। আর যদি দুনিয়ার মোহ, লোভ-লালসা ও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়েন তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে হিংসা বিদ্বেষের আযাব নাজিল করবেন।

. বিদআত ও বিদআতীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের সাথে ওঠাবসা, বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। যদি কেউ এমনটি করে তাহলে তিনি বিদআতের বিরুদ্ধে সঠিক কথা বলতে বিব্রত বোধ করবেন। ফলে দা’ওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য তথা বিদআতের মূলোৎপাটন ব্যাহত হবে।

৯. ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার দিকে দা’ওয়াহ প্রদান। ইসলাম যেহেতু স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা সেহেতু ইসলামের পরিপূর্ণতার দিকে দা’ওয়াহ প্রদান করতে হবে। বিশেষ কিছু মাসআলা নিয়ে বা একটি দিক নিয়ে এত বেশি আলোচনা করা যাবে না যাতে করে ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়, মানুষের নিকটে ইসলাম কতিপয় মাসআলার নাম হিসেবে পরিচিত হয়। এমনটি সফল দা’ওয়ার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। তবে হ্যাঁ, যে পরিবেশে ইসলামের যে বিধানটি অবহেলিত বেশি সেই পরিবেশে সেই বিধানের আলোচনা বেশি হওয়া উচিত।

আধুনিক যুগে দা’ওয়ার ব্যর্থতার মৌলিক তিনটি কারণ

প্রথম কারণ : মাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। অর্থাৎ দা’ওয়াহ প্রদানের জন্য যে মাধ্যমগুলো আমরা ব্যবহার করি, যেগুলোর সাহায্যে আমরা সহজ ভাবে দা’ওয়ার কাজ আঞ্জাম দেই সেগুলোকেই লক্ষ্য উদ্দেশ্যে হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি। অথচ সেগুলো কেবল মাধ্যম, চূড়ান্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য নয়। যেমন দ্বীনি সংগঠন। সংগঠন হলো ঐক্যবদ্ধভাবে খুব সহজেই এবং পরিকল্পিত উপায়ে ইসলামের দা’ওয়াহ ব্যাপকহারে প্রদানের সর্বোত্তম মাধ্যম। আধুনিক যুগে যা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সংগঠন কখনোই দা’ওয়ার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেনা। অথচ আপনি দেখুন আজকে ইসলামী সংগঠনগুলোর অনেক কর্মী সংগঠনকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যেন দা’ওয়াহ নয়, সংগঠন করাটাই মূল উদ্দেশ্য। আর এর ফলে পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ, কুৎসা রটনা, কাঁদা ছোড়াছুড়ি দেখতে পাওয়া যায়। একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী এমনকি শত্রু মনে করে। এবং এর ফলে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় ব্যাহত হয়। অথচ পরস্পরের মাঝে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক কাম্য ছিল।

দ্বিতীয় কারণ : শাখা-প্রশাখাগত মাসআলায় বাড়াবাড়ি এবং এর জন্য শক্ত শব্দ প্রয়োগ। আমাদের দেশে কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশে এই মারাত্মক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংক্রামক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ শাখা মাসআলায় মতানৈক্য নতুন নয়, সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই চলমান। ফিকহের কিতাব যারা অধ্যয়ন করেন তারা সকলেই এ কথার সত্যতা স্বীকার করবেন। এবং এও স্বীকার করবেন যে, এমন অনেক মাসআলা আছে যেখানে দুই বা তিনটি মতই সঠিক অথচ আমাদের অনেকেই মনে করেন, প্রত্যেকটি মাসআলায় একটিমাত্র মত সঠিক হতে পারে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অপরদিকে শাখা—প্রশাখা মাসআলা নিয়ে আমরা এত বেশি সময় ব্যয় করি, অথচ পশ্চিমা বিশ্ব মুসলিমদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, ইসলামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত বিষয় নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করছে। একজন আরব স্কলার একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আমি একবার উত্তর আমেরিকায় মুসলিমদের বৃহত্তর একটি সম্মেলনে বক্তৃতা করছিলাম। আমার বক্তব্য ছিল পশ্চিমা বিশ্ব কিভাবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর উপরে অর্থনৈতিক শোষণ চালাচ্ছে। খুব তথ্যবহুল বক্তৃতা দেয়ার পরে আমি যখন নামছিলাম তখন এক যুবক হন্তদন্ত হয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসলো। আমি বুঝতে পারলাম সে খুব পেরেশান এবং হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করতে চায়। আমি ধারণা করছিলাম সে হয়তো আমার বক্তৃতার বিষয় নিয়েই আলোচনা করবে। কিন্তু সে এসে আমাকে প্রশ্ন করলো, স্যার! আপনি যে টাই পড়েছেন তা কি পড়া জায়েয? আমি কি উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না।

ফিক্হি মতনৈক্য থাকতেই পারে কিন্তু তাই বলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ লোপ পাবে কেন? সালাফদের মাঝেও এমন অনেক মাসআলা মতানৈক্যপূর্ণ ছিল, কিন্তু তাদের মাঝে কোন দ্বন্দ্ব ছিল না, হিংসা বিদ্বেষ ছিল না। একে অপরের কল্যাণকামী ছিলেন।

তৃতীয় কারণ : দুনিয়াবি স্বার্থ, নেতৃত্বের মোহ, অপরকে দমানোর কুটকৌশল অবলম্বন এবং নিজের আমিত্ব ও বিশুদ্ধতার বড়াই করা। এটি যেমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে ঠিক তেমনি সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও এর চর্চা থাকতে পারে। দাঈগণ যদি নিজেদেরকে চূড়ান্ত সঠিক মনে করে এবং বাকি সবাইকে ভ্রান্ত মনে করে তাহলে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ আশা করা যায় না। ঠিক তেমনি নিজের সংগঠনিক বলয়কে চূড়ান্ত বিশুদ্ধ মনে করে অন্যদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলে দা’ওয়াহ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবে না।

পরিশেষে, ইসলামী দা’ওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আমরা কমবেশী সকলেই জানি। দা’ওয়াহ না দিলে ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো ইসলাম যে দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাও আমরা জানি। কিন্তু এরপরেও আমরা আমাদের গাফলতি থেকে সতর্ক হচ্ছি না। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, আল্লাহ তাআলা তার দ্বীনের হেফাজত করবেন, দ্বীনকে বিজয়ী করবেন এবং কোনো না কোনো বান্দাকে দিয়ে দ্বীনের কাজের আঞ্জাম দিবেন। সৌভাগ্যবান তো তারাই যারা নিজেকে সেই খেদমতে উজার করে দিতে প্রস্তুত, আর হতভাগা তারাই যারা গাফলতির মহানিদ্রা থেকে এখনো জাগতে পারে নি। ওদিকে আল্লাহর দ্বীনের জন্য যখন চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেছে, দ্বীনের মশাল নিয়ে একদল মুসলিম যুবা অগ্রসর হচ্ছে, পশ্চিমাদের ফকটাবাজি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে এবং ইসলামকেই সভ্যতার শেষ ঠিকানা হিসেবে গ্রহণের জন্য বিবেকবানরা তৈরি হচ্ছে, অবিশ^াসের মোহমায়াময় প্রাসাদ ধ্বসে গিয়ে ঈমানের সুরম্য অট্রালিকা পুনরায় নির্মিত হচ্ছে, শত্রুরা দিক্বিদিকশূণ্য হয়ে পেরেশান হচ্ছে তখনও আমরা গাফলতির নিদ্রা থেকে জাগতে পারছি না। আর কবে……

Facebook

ড্যাশবোর্ড

পাঁচ দফা কর্মসূচি

তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।

ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।

যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।

অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন

আপনার সহযোগিতা জমা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

একখনি করুন