جمعية شبان أهل الحديث بنغلاديش
Jamiyat Shubbane Ahl-Al Hadith Bangladesh
শিরক ও বিদ’আতের মূলোৎপাটন করত মানবরচিত মতবাদের ওপর ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকল যুগে সকল দেশে আহলে হাদীসের সংগ্রাম ছিল অবিরাম ও আপোষহীন। আমাদের ভারতীয় উমহাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শাহ্ ইসমাঈল শহীদ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত (১৮৩১ সালে) বালাকোট যুদ্ধের পর ১৯০৬ সালে সুসংগঠিতভাবে জন্ম নেয় “অল ইন্ডিয়া আহলে হাদীস কনফারেন্স” নামে সর্বভারতীয় তাওহীদী সংগঠন। এর অব্যবহিত পরেই বাংলার বিশিষ্ট আলেমদের সমবেত প্রচেষ্টায় ১৯১৪ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় “আঞ্জুমানে আহলে হাদীস বাঙ্গালা”। পরে এর সাথে আসামকেও সংযুক্ত করা হয়। ইংরেজ শাসনাবসান, দেশ বিভাগ ও নবরাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে অসাধারণ প্রতিভা ও মহৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আল্লামা মোহাম্মাদ আবদুল্লাহেল কাফী আল-কোরায়শী (১৯০০-১৯৬০)-এর নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালে গঠিত হয় “নিখিল বঙ্গ ও আসাম জমঈয়তে আহলে হাদীস”। কালের দীর্ঘ পরিক্রমায় এ সংগঠনটিই বর্তমানে “বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস” নামে সফলতার সাথে এদেশে আহলে হাদীস আন্দোলন পরিচালনা করে যাচ্ছে। ১৯৬০ সাল হতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (UGC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান আল্লামা প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আব্দুল বারী এ জমঈয়তেরই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সংগঠনের একমাত্র অনুমোদিত এবং স্বীকৃত যুবসংগঠন হলো “জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ”। আরবি ‘শাব্বুন’ (যুবক) শব্দের বহুবচন ‘শুব্বান’। আপনারা জানেন যে, ছাত্র ও যুবসমাজের মাঝে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ১৯৮৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বংশাল বড় জামে মসজিদের ২য় তলায় আল্লামা ড.মুহাম্মদ আব্দুল বারী, প্রফেসর একে এম শামসুল আলম, শাইখ আবু মুহাম্মদ আলীমুদ্দীন, আলহাজ্ব মুহাম্মদ হুসাইন, আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহ্হাব, অধ্যাপক হাসানুয্ যামান, আব্দুল ওয়াহাব লাবীব, অধ্যাপক এ, এইচ, এম, শামসুর রহমান, অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ গয্নফর, অধ্যাপক মুহাম্মদ মুবারক আলী, ড. আযহার উদ্দিনসহ মধ্যপ্রচ্যের কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত ছাত্র, তরুণ ও যুবকদের এক কনভেনশনে “জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ” আত্মপ্রকাশ করে। রাজধানী ঢাকার নবাবপুর রোডে এর কেন্দ্রীয় দফতর স্থাপিত হয়। বর্তমানে যার সদর দফতর ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়িতে জমঈয়ত ভবনে অবস্থিত। উল্লেখ্য, ৫০’র দশক থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা আহলে হাদীস ছাত্র-যুব সংগঠনসমূহের সম্মিলিত এবং স্বীকৃত জাতীয় পরিচয়ই হলো ‘জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ’। শুব্বানের এ ঐতিহাসিক যাত্রায় যাঁরা বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন তাদের জন্য মহান আল্লাহ্ তায়ালার নিকট জাযায়ে খাইর কামনা করছি।
মহান আল্লাহর সুন্দরতম সৃষ্টি মানুষ, অপর দিকে মানুষ মহান আল্লাহর দাস। বিশ্বের সব আয়োজন, সব নিয়ামত এই মানুষেরই প্রয়োজনে। মানুষ বিশ্বের সব আয়োজন, সব নিয়ামত এই মানুষেরই প্রয়োজনে।
“তিনি সেই সত্তা যিনি তোমাদের কল্যাণে পৃথীবীর সবকিছু সৃজন করেছেন” (সূরা আল-বাকারাহ,২:২৯)। অতএব, মহান আল্লাহর ‘ইবাদত করাই মানুষের মৌলিক কাজ। প্রসঙ্গত আল্লাহ তা‘আলা বলেন- “আর আমি মানুষ ও জিন জাতিকে কেবল আমার ‘ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সূরা আয্ যারিয়াত, ৫১:৫৬)
মানুষের আর একটি গর্বিত কিন্তু দায়িত্বপূর্ণ পরিচয় হলো, সে আল্লাহর মনোনীত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ এ সম্বন্ধে বলেন-“স্মরণ করো! যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই।” (সূরা আল বাক্বারাহ্, ২:৩০) ব্যক্তি ও সমাজের সর্বস্তরে আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের যথাযথ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই তার সার্বক্ষণিক দায়িত্ব। বস্তুত এ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের ইহকালীন এবং পরকালীন সাফল্য।
মানবতার শিক্ষক নবী-রসূলগণ যুগে যুগে মহান আল্লাহর মনোনীত জীবনব্যবস্থা ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। সে ধারাবাহিকতায় সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ-এর মাধ্যমে আমরা পেয়েছি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা ‘আল-ইসলাম’। যেমনটি মহান আল্লাহর ঘোষণা- “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করলাম” (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩)। আর এ জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করেই উম্মাতে মুহাম্মাদী সর্বকালের সেরা জাতির মর্যাদা প্রাপ্ত হয়েছে। সেইসাথে সমাজ সংস্কারের মতো বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- “তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানব জাতির (কল্যাণের) জন্যই তোমাদের আবির্ভাব। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজে বাধা দিবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান, ৩: ১১০)। শ্রেষ্ঠ জাতির মৌলিক দায়িত্ব বা করণীয় এখানে স্রষ্টা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ বলেন- “এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হও আর রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।” (সূরা আল-বাক্বারাহ্, ২:১৪৩)
মধ্যপন্থী এ জাতির শ্রেষ্ঠ ও মৌলিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং কুরআন-সুন্নাহর খালেস অনুসরণ। মহান আল্লাহর নির্দেশও তাই- “আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আ-লে ‘ইমরান, ৩: ১০৩) সুতরাং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত না হয়ে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব পরিহার করে শেকড়ের টানে তোমাকে ছুটে আসতেই হবে।
বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী নিরন্তর পথ নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন-উম্মাহকে এক “আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে গেলাম। এ দু’টি জিনিস গ্রহণ করার পর তোমরা কখনো বিভ্রান্ত হবে না। সে দু’টি জিনিস হলো, আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং আমার সুন্নাত।” (মুসতাদরাক হাকিম- হা: ৩১৯)
বস্তুত কুরআন ও সুন্নাহ এ দু’টি মহাসনদের নিঃশর্ত অনুসরণই ইসলাম। মহানবী এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সোনালি যুগে মুসলিম জাতি এ দু’টি তুহফার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে বৈষয়িক এবং আত্মিক উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেছিল। তাওহীদ এবং সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করেছিল বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্য এবং গৌরবোজ্জ্বল এক কালজয়ী সভ্যতা। আমরা সেই অনন্য সভ্যতার উত্তরসূরি।
আহলুল হাদীস বা আহলে হাদীস অর্থ কুরআন ও হাদীসের অনুসারী। এরা মুসলিমদের মধ্যে সেই সত্যপন্থী জামা’আত যারা কুরআন ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং এ দুই মূল উৎসকে মানব রচিত সকল মতবাদের উপরে প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে সাহাবা ও তাবেঈন-এর আদর্শ অনুসরণ করেন- তা ‘আকীদাহ্, ‘ইবাদত, মু’আমালাত, আখলাক, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। দ্বীনের উসূল (মৌলিক ভিত্তি) ও শাখার সকল ক্ষেত্রেই তারা কুরআন-সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকেন। আহলে হাদীসগণ নবী থেকে লব্ধ ‘ইলম অন্যের নিকট পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ বিষয়ে তারা চরমপন্থীদের অনভিপ্রেত পরিবর্তন, বাতিলপন্থীদের অন্যায় সংযোজন ও মূর্খদের অপব্যাখ্যা প্রতিহত করে আসছেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের নিকট এরা কখনও আহলুল হাদীস, কখনও আসহাবুল হাদীস আবার কখনও মুহাম্মাদী বা সালাফী নামে অভিহিত হয়ে আসছেন।
এ পৃথিবী কারো আসল ঠিকানা নয়। মৃত্যুর পর আখিরাতের অনন্ত জীবনে প্রবেশ করতে হবে। হাশরের ময়দানে ভয়াবহ বিচার দিবসে মহান আল্লাহর নিকট প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। সেদিন নিজের সৎকর্ম ব্যতিত অন্য কিছু কারো কোনো উপকারে আসবে না। সৎকর্মশীলরা লাভ করবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সেইসাথে চির শান্তি-সুখের নীড় ‘জান্নাত’। অথচ দুষ্কর্মশীলরা পাবে নিকৃষ্টতম ভয়াবহ আবাস ‘জাহান্নাম’। সেই জগতে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সংগৃহীত হয়েছে কি?
কালেমা “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”-কে যথাযথ উপলব্ধি করত জীবনের সর্বস্তরে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।
ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।
যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।
অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
কালেমা “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”-কে যথাযথ উপলব্ধি করত জীবনের সর্বস্তরে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন, খালেস ‘ইবাদতের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ব মনেপ্রাণে ও বাস্তবে গ্রহণের মানসিকতা সৃষ্টি করা।
ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দা’ওয়াত দেয়া এবং তাদেরকে প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা।
ইসলামী সমাজ ও জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র ও যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করা।
যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান, শিরক ও বিদ’আতের মূলোৎপাটন এবং এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে যোগ্য আহলে হাদীস কর্মী গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর নেতৃত্বে আহলে হাদীস আন্দোলনকে সমাজের সর্বস্তরে সম্প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত করা।
যাবতীয় অনৈসলামিক রীতিনীতি ও অপসংস্কৃতি প্রতিহত করে কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।
জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ মহানবী-এর অনুসৃত স্বাভাবিক এবং হিকমাতপূর্ণ পন্থায় কর্মতৎপর। চরমপন্থা কিংবা আপোষকামিতা নয় বরং মধ্যপন্থাই শুব্বানের সাংগঠনিক পলিসি। সেইসাথে সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তবভিত্তিক মানোন্নয়ন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রথম স্তর রাগেব (অনুরাগী), দ্বিতীয় স্তর ‘আরেফ (সচেতন), তৃতীয় স্তর সালেক (অভিযাত্রী) এবং চতুর্থ তথা সর্বোচ্চ স্তর হলো সালেহ (নিষ্ঠাবান)। মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেবাসের আলোকে জ্ঞানগত এবং ব্যাবহারিক উভয় দিকের ক্রমোন্নতি বিবেচনা করা হয়।
শাখা, থানা/উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্র। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রণীত সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র, কর্মপদ্ধতি এবং সিলেবাসের ভিত্তিতে শুব্বানের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইসলামের বিশেষ কোন দিক বা বিভাগ নয় বরং পূর্ণাঙ্গ ইসলাম অনুসরণের লক্ষ্যে শুব্বান কাজ করে যাচ্ছে। সেইসাথে সকল ইসলামী সংগঠন বা সংস্থার সাথে বন্ধুসুলভসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মুসলিম ঐক্য সুদৃঢ়করণেও শুব্বান সদা সচেষ্ট। আমাদের আন্দোলন শেকড়সন্ধানী। শুধু বিজাতীয় মতবাদ নয়; বরং মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক-বিদ’আত ও অপসংস্কৃতির মূলোৎপাটনেও আমাদের সংগ্রাম আপোষহীন।
ঘটনাবহুল দু’টি সহস্রাব্দ পেরিয়ে বিশ্ববাসী আজ এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে পৃথিবী আজ যতটা বস্তুগত উৎকর্ষে সমৃদ্ধ; যুলম-নির্যাতনে বিশ্বমানবতা যেন ততটাই নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকটে পর্যুদন্ত। বিশেষ করে ইসলাম ও মুসলিমগণ সর্বত্রই অবহেলিত, অপমানিত ও তিরস্কৃত এবং তারা অনেক রাষ্ট্রেই অবর্ণনীয় নিগ্রহের শিকার। জঙ্গি ও সন্ত্রাসের মিথ্যা অজুহাতে এক এক করে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে মুসলিম শিক্ষা-সভ্যতার গৌরব ও ঐতিহ্যের নিদর্শনসমূহ। হত্যা করা হচ্ছে নিরপরাধ মুসলিম শিশু, নারী-পুরুষ ও বয়স্কদের। অন্যদিকে সর্বময় মাথাচাড়া দিয়েছে পরকালবিমুখ জীবনদর্শন ও বিজাতীয় অপসংস্কৃতির ধারক বাহকরা। এ অবস্থার অবসানকল্পে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে কুরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে দ্বীনের শেকড়মুখী আন্দোলন। আমাদের প্রিয় জন্মভূমিতেও ‘বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস’-এর নেতৃত্বে ‘জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ’ একই প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে দেশে ইসলামী পুনর্জাগরণ ও শেকড়সন্ধানী যে ঢেউ আজ বিশ্ববাসীকে সিরাতুল মুস্তাকিম তথা সত্য ও ন্যায়ের নিরঙ্কুশ পথে আহ্বান জানাচ্ছে, সেই স্রোতধারায় কুরআন-সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের কাফেলায় শামিল হওয়ার জন্য আমরা আপনাকে (সকল ছাত্র, তরুণ-যুবক) উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
তাওহীদ ও রিসালাতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন ও অনুশীলন।
ছাত্র ও যুব সমাজের নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান।
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।
যুব শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান।
অনৈসলামিক রীতিনীতি প্রতিহত করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
পছন্দের অপশনে ক্লিক করুন